ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রেলের টাকায় চলছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ

প্রকাশিত: ০২:৪৫ এএম, ২৩ জানুয়ারি ২০১৭

পূর্বাঞ্চল রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের বিদ্যুৎ বিভাগের একটি অসাধু চক্র কয়েকশ বাসা ও অর্ধশত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রেলের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছেন অতিরিক্ত বিলের বোঝা।

ওইসব অবৈধ সংযোগ থেকে মাসে মাসে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে ওই চক্রটি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানলেও রহস্যজনক কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত তিন শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশে বিশাল প্রায় পাঁচশ আবাসিক কোয়ার্টার (বাসা) রয়েছে। কোয়ার্টারে তুলনায় শ্রমিক কম থাকায় বেশ কিছু বাসা বরাদ্দহীন এবং কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবার না থাকায় অর্ধেকেরও বেশি বাসা খালি পড়ে রয়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষ পল্লী বিদ্যুৎ থেকে বিদ্যুৎ এনে এসব বাসা ও অফিসে সরবরাহ করেছে। আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী/বৈদ্যুতিক অফিস বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজে নিয়োজিত। বৈধ সংযোগ দেয়া প্রতিটি বাসায় একটি করে মিটার দেয়া হয় এবং মিটারের রিডিং অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনের অংশ থেকে বিদ্যুৎ বিলের টাকা কেটে নেয় রেলকর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে কলোনীর কয়েকশ বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ রয়েছে। স্টেশন এলাকার কয়েকটি হোটেল ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে রেলওয়ের বিদ্যুতে।

আখাউড়া উপজেলার কুমারপাড়া কলোনী, পশ্চিম কলোনী, পূর্ব কলোনীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে রেলের নিজস্ব বাসা ছাড়াও সেখানে কিছু অবৈধ বাসাবাড়ি-দোকানপাট গড়ে উঠেছে। বরাদ্দহীন রেলের বাসা ও দোকানপাটে বিদ্যুতের তারের সঙ্গে হুক লাগিয়ে অবৈধ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। আবার কিছু বাসা ও দোকানপাটে বিদ্যুতের সরাসরি সংযোগ দেয়া আছে।

সূত্রে জানা যায়, আখাউড়া রেলওয়ে বিদ্যুৎ অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। ওইসব অবৈধ সংযোগ থেকে মাসে পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হয়। এভাবে প্রতি মাসে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রেলের ওই অসাধু চক্রটি। আর অতিরিক্ত ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করছে রেল কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে জংশনের বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনোজ মিত্র অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিল আদায় করেন বলে জানা গেছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে রেলওয়ে জংশনের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা মনোজ মিত্র নিজেই অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িত। মনোজ মিত্র তার অফিসের স্টাফ লোকমান, বাশার ও রিপনকে দিয়ে অবৈধ সংযোগের বিল আদায় করিয়ে থাকেন।

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি স্বীকার করে আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মনোজ মিত্র জাগো নিউজকে বলেন, কিছু অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছন্নকরণের অভিযান চালানো হবে। তবে আমি ব্যক্তি আক্রোশের শিকার, একটি স্বার্থন্বেষী মহল অবৈধ সংযোগে আমার নাম জড়ানোর পায়তারা চালাচ্ছে।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/এমএস