রাঙামাটিতে দুটি মালবাহী ট্রাকে দুর্বৃত্তদের আগুন
চাঁদা না পেয়ে দুইটি মালবাহী ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার ভোরে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের নানিয়ারচরের বেতছড়ির চোংড়াছড়ি নামক পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে মালামাল ভর্তি দুটি ট্রাক পুড়ে গেছে ।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এর প্রতিবাদে রাঙামাটি শহরে তাৎক্ষণিক অবরোধ সৃষ্টি করেন সড়ক পরিবহন মালিক, চালক ও শ্রমিকরা। অন্যদিকে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে বিশেষ জরুরি সভার আহ্বান করে জেলা প্রশাসন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ব্যবসায়ীদের পণ্য বোঝাই দুটি ট্রাক (নম্বর চট্ট মেট্রো-ট-১১-০৭৪১ ও ঢাকা মেট্রো-১১-২০৬৬) খাগড়াছড়ির মহালছড়ি বাজার যাচ্ছিল। ট্রাক দুটিতে ব্যবসায়ীরাও ছিলেন। যাওয়ার পথে ভোর প্রায় ৫টার দিকে নানিয়ারচর উপজেলার বেতছড়ির চোংড়াছড়ি নামক স্থানে ট্রাক দুটির গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দুর্বৃত্তরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। এতে অস্বীকৃতি জানালে দুটি ট্রাকই আগুন দিয়ে চালক ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার ট্রাকযাত্রীরা মহালছড়িবাজার গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মুন্সী মিয়া (৫৫) নামে গুরুতর আহত এক ব্যবসায়ীকে মহালছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ট্রাক দুটির মালিক টিংকু বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গেছেন। দুর্বৃত্তদের আগুনে মালামালসহ তার দুটি ট্রাক পুড়ে যাওয়ায় কম পক্ষে অর্ধ-কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। 
এ ঘটনায় রাঙামাটির যানবাহন মালিক, চালক ও শ্রমিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন তারা। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে রাঙামাটি শহর। অবরোধে বেলা ১১টার পর থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন শহরের লোকজন ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।
রাঙামাটি সড়ক পরিবহন ও মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন ও অটোরিকশা চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান মহসিন রোমান বলেন, পার্বত্য এলাকায় অবিলম্বে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। আমাদের জানমাল ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে ঘটনার জন্য দায়ী দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
এসব দাবিতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়ে তারা বলেন, আমাদের দাবিতে প্রশাসন সন্তোষজনক আশ্বাস দিতে পারলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচি চলতে থাকবে।
এদিকে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে দুপুরে এক জরুরি সভার আহ্বান করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোয়াজ্জেম হোসেন, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার শহীদুল্ল্যাহ এবং অপরপক্ষে রাঙামাটি সড়ক পরিবহন ও মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন ও অটোরিকশা চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান মহসীন রোমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান বলেন, সভায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সবাইকে সহনশীলতার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জনানো হয়েছে। দুষ্কতকারীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পার্বত্য এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসন, পুলিশ, নিরাপত্তাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথসভার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সুশীল প্রসাদ চাকমা/আরএআর/জেআইএম