আলুখেতে লেটব্লাইট : দিশেহারা কৃষক
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের চরতেরটেকি গ্রামের কৃষক আলী হোসেন এবার প্রায় একশ শতক জমিতে আলু চাষ করেছেন।
আশা ছিল এবার তিনি দেড়শ মন আলু পাবেন। সময় মতো জমিতে সেচ ও কীটনাশক দিয়েছেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই আলুর মড়ক (লেটব্লাইট) রোগ দেখা দিয়েছে। কাণ্ডপচা রোগে পুড়ে গেছে তার সব জমির ফসল। নষ্ট হয়ে যাওয়া জমিতে আনমনে হাঁটছিলেন এ প্রান্তিক কৃষক।
আলী হোসেনের মতো চর এলাকার শত শত কৃষকের একই অবস্থা। জমি নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা তারা। আলু লাগিয়ে সময় মতো জমিতে পানি ও বালাইনাশক স্প্রে করার পর সতেজ হয়ে উঠতে শুরু করে আলুখেত।
কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতে দেখা দেয় মড়ক। এরপর বার বার কীটনাশক দিয়েও রক্ষা করা যাচ্ছে না জমির ফসল। আর এমন দুঃসময়ে কৃষি বিভাগের কর্মীদের কাছে পাচ্ছেন না চরের কৃষকরা।
এবার চরাঞ্চলে আলুখেতে (লেটব্লাইট) বা কাণ্ডপচা রোগ দেখা দিয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পুড়ে গেছে বিস্তীর্ণ জমির আলু। খেতের ফসল নষ্ট হওয়ায় এসব অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তবে দুর্দিনে কৃষি বিভাগের কর্মীদের কাছে না পাওয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন এরাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকার আলুখেত পঁচে শুকিয়ে গেছে।
চরতেরটেকি গ্রামের কৃষক সাহাবুদ্দিন ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ১৩ কাঠা জমিতে আলু লাগিয়েছেন। এ জমি থেকে প্রায় দেড়লাখ টাকার আলু বিক্রি হতো। কিন্তু এখন পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, কৃষিভিাগের লোকজন পাশের বাজারে এসে একটি কীটনাশকের দোকানে বসে থাকেন। তার কাছে গিয়ে জমিতে এসে দেখার জন্য অনুরোধ করেছি। তিন্তু এ পর্যন্ত তিনি জমির কাছেও আসেনি।

একই এলাকার খোকন মিয়া, হেলাল উদ্দিনসহ অনেক কৃষকের অভিযোগ এলাকায় অসংখ্য জমি বিনষ্ট হয়ে গেলেও কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠে যায় না। কৃষকরা জানান, অস্থিতিশীল আবহাওয়ার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আলুখেত। গাছে মড়ক লেগে পঁচন ধরায় শুকিয়ে যাচ্ছে খেত।
কৃষি বিভাগের মতে দিনে ও রাতে আবহাওয়ার তারতম্য ও ঘন কুয়াশার ফলে আলুখেতে মড়ক (লেট ব্রাইট) রোগ দেখা দিয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি নয় বলে দাবি তাদের। আর কৃষি বিভাগের কর্মীদের মাঠে না যাওয়ার অভিযোগ মানতে নারাজ পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গৌর গোবিন্দ দাশ।
তিনি বলেন, কৃষকরা এরকম অভিযোগ করবে। এতে আমার কী করার আছে? আগাম রোপন করে ফেলায় এবং সময় মতো কীটনাশক স্প্রে না করায় কিছু এলাকার আলু নষ্ট হয়েছে। তবে বেশিরভাগ এলাকায় এ রোগ দেখা দেয়নি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলায় ৭ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাকুন্দিয়া উপজেলায় চাষ হয়েছে ১ হাজার ৭৩০ হেক্টার জমিতে। কিছু স্থানে মড়ক দেখা দিলেও অন্যান্য এলাকায় আলুর আবাদ ভালো।
নূর মোহাম্মদ/এএম