ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জামাই বাবুকে হত্যার দায় স্বীকার চারজনের

প্রকাশিত: ০১:৩১ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০১৭

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার ইসলাম বাবু ওরফে জামাই বাবুকে (৩২) ছুরিকাঘাত করে খুন করার ঘটনায় গ্রেফতার চারজন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার ১৬৪ ধারায় তারা জবানন্দি দেন। সেই সঙ্গে তারা জানান, জামাই বাবুর কিলিং মিশনে ১০-১২ জন বন্ধু অংশ নিয়েছিল। বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক ভাবে গ্রেফতাররা এ জবানবন্দি দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্তের আদালতে আতাউর রহমান, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিক ইমামের আদালতে জাকির হোসেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহম্মদ হুমায়ন কবিরের আদালতে রাজন ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুল মহসীনের আদালতে কাউসার আহম্মেদ রিতু জবানবন্দি দেন।   

আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন, ফতুল্লার নিউ হাজীগঞ্জ এলাকার হারুন অর রশিদের বাড়ির ভাড়াটিয়া জহির উদ্দিনের ছেলে আতাউর রহমান (২৪), মমিন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া মোস্তফা মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন (২২), একই এলাকার শ্যামল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া আব্দুর রবের ছেলে কাউসার আহম্মেদ রিতু (২২) ও পাঠানটুলী কবরস্থান সংলগ্ন এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে রাজন (২২)।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজি এনামুল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টায় নিউ হাজীগঞ্জ শাহজালাল রোড এলাকায় আতাউর রহমান, রাজন, কাউসার, জাকিরসহ ১০-১২ জন বন্ধু মিলে একটি দোকানের সামনে আড্ডা দিচ্ছিল।

তখন জামাই বাবু একা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। ওই সময় রাজন বাবুকে সালাম দিলে উত্তেজিত হয়ে উঠে। তখন তাদের তর্কবির্তকের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাবু কোমর হতে ধারাল একটি ছোরা বের করে আতাউরকে আঘাত করতে গেলে লক্ষ্যচ্যুত হয়ে রাজনের গায়ে লাগে। তখন বাবুর ছোরাটি মাটিতে পড়ে গেলে আতাউরের নেতৃত্বে সকল বন্ধু মিলে সেই ছোরা দিয়ে বাবুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করে।  

তিনি আরও বলেন, আনোয়ার ইসলাম বাবু ওরফে জামাই বাবু একজন মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রায় সময় আতাউর, রাজন, জাকিরসহ অন্যদের বিভিন্ন লোকের কাছে মাদক পৌঁছে দিতে বললে তারা রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হতেন জামাই বাবু।

এ নিয়ে বাবুসহ তার বন্ধুরা মিলে তাদের ছোট ভাই আতাউর গংদের মারধর করতেন। তাদের মধ্যে এ নিয়ে বিরোধ ছিল। যার কারণে ঘটনার দিন বাবুকে সালাম দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে তাদের তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে এলাকার ছোট ভাইদের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই খুন হয়।

এরপর ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ওসি কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম খুনিদের ধরতে মাঠে নামেন। তারা পুরো হাজীগঞ্জ এলাকায় সাড়াশি অভিযান চালায়।

তবে মাদক ব্যবসার প্রভাব বিস্তার নিয়ে জামাই বাবু খুন হয়েছে তা ঘটনার পর পর থানার ওসি সাংবাদিকদের এমনটা নিশ্চিত করেছেন। আর সে সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে খুনিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মো: শাহাদাত হোসেন/এএম/পিআর