ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

থাইল্যান্ডের কেঁচোতে সাফল্য নোয়াখালীতে

প্রকাশিত: ০৬:২২ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ভার্মি কম্পোস্ট সার (কেঁচো সার) তৈরি করে সফল হয়েছেন নোয়াখালীর সাহাব উল্যাহ নামে এক চাষী। স্বল খরচে পরিবেশ বান্ধব এ সার উৎপাদনে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। পাশপাশি অনেক চাষী এখন কেঁচো থেকে কম্পোস্ট বা জৈব  সার তৈরি ও বাজারজাত করণে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সরেজমিনে নোয়াখালীর সেনবাগ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড নজরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কৃষক সাহাব উল্যাহ নিজ বাড়ির উঠানে কেঁচো থেকে কম্পোস্ট সার তৈরি করছেন। টিনের দোচালা ঘরের মধ্যে সিমেন্ট দিয়ে একটি ট্যাংক তৈরি করে তাতে লতাপাতা-খড় ও পচা আবর্জনার সাথে কেঁচো রেখে দিয়ে তার বিষ্ঠা থেকে কিছুদিন তৈরি হয় হয় কম্পোস্ট বা জৈব সার।

Earth

এলাকার একজন সফল কৃষক হিসেবে পরিচিত সাহাব উল্যাহ জাগো নিউজকে জানান, তিনি সম্পূর্ণই কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। কয়েক মাস আগে কেঁচো থেকে জৈব সার তৈরির কাজ শুরু করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে তিনি বর্তমান থাইল্যান্ডের এক জাতের কেঁচো থেকে জৈব সার তৈরি করছেন। ৪৫ দিনে কেঁচো থেকে ডিম ও বাচ্চা হওয়ায় এ সার উৎপাদনে লাভ হয় বেশি। উৎপাদিত সার নিজের জমিতে যেমন ব্যবহার করছেন  পাশাপাশি কেঁচো থেকে বের হওয়া বাচ্চা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। তার ধারণা এ ধরনের সার উৎপাদন ও ব্যবহার করলে দেশে শতকরা ৪০ ভাগ রাসায়নিক সার ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হবে এবং রাসায়নিক মুক্ত খাদ্য উৎপাদন করা যাবে।

এদিকে কৃষক সাহাব উল্যাহর কেঁচো থেকে জৈব সার তৈরি দেখে এলাকার অনেকেই নিজ বাড়িতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ সার উৎপাদন করছেন।

কেঁচো থেকে কম্পোস্ট সার তৈরি করায় একদিকে কম খরচে অধিক লাভ হচ্ছে, পাশাপাশি অনেক লোকের কর্মসংস্থানের ও ব্যবস্থা হচ্ছে।

সেনবাগ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান জানান,  কেঁচো সার জৈব সার তৈরির ব্যাপারে থাকা প্রতিটি ব্লকে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছেন।

Noakhali

নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ প্রণব ভট্টাচার্য জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে কৃষক সাহাব উল্যাহ উন্নত মানের কেঁচো সার তৈরি ও কেঁচো বিক্রয় করছেন। এটি কম করচে অধিক লাভের একটি পদ্ধতি। জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদফতরে থেকে গোটা জেলায় এ পদ্ধতিটি ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষে তারা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, জেলায় ৫ থেকে ৬শ জন কেঁচো থেকে সার উৎপাদন ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তার মধ্যে সুবর্ণচর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লোক এই কাজ করছেন। উজ্বল সম্ভাবনা থাকায় অনেক নারীও এ কাজ করছেন।

এমএমজেড/আরআইপি