ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সুন্দরবন থেকে ৪৩টি কুমির চুরি

প্রকাশিত: ০২:১৫ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজলে সরকারিভাবে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে একমাত্র বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের ৪৩টি কুমিরের বাচ্চা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের বনকর্মী (লস্কার) মাহাবুব হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি জাকির হোসেন নামে এক অস্থায়ী কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনা তদন্তে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মেহেদীজ্জামানকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুমির প্রজনন কেন্দ্রে ২৭৭টি কুমিরের মধ্যে চুরি হওয়ার পর এখন ২৩৪টি কুমির রয়েছে।

সুন্দরবনের কুমিরের বিলুপ্তপ্রায় লবণপানির প্রজাতির কুমিরের প্রজনন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে ২০০২ সালে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজলে প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয় দেশের একমাত্র এই বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রটি।

চুরি হওয়ার পর বর্তমানে করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রে রোমিও নামে একটি পুরুষ, জুলিয়েট ও পিলপিল নামের দুটি মা কুমির ও ২৩৪টি বাচ্চা রয়েছে।

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মেহেদীজ্জামান জানান, করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের দুটি প্যান (কৃত্রিম পুকুর) থেকে ৪৩ কুমিরের বাচ্চা চুরি হয়েছে।

গতকাল বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওই দুটি প্যানে থাকা কুমিরের বাচ্চা গণণা করে ৪৩টি কম পাওয়া যায়। পরে সেখানকার দায়িত্বরত কর্মকর্তা বিষয়টি জানানোর পর ওই দিন দুপুরে পূর্ব সুন্দরবনে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

গঠিত তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদপাই রেঞ্জের এসিএফ মো. মেহেদীজ্জামান আরও বলেন, কোনো হিংস্র প্রাণি যদি প্যানে ঢুকে বাচ্চাগুলোকে আক্রমণ করতো কিংবা খেয়ে ফেলতে তাহলে সেখানে হাড়, মাংস, অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও রক্ত দেখা যেত।

এমন কোনো আলামত সেখানে পাওয়া যায়নি। প্রায় এক বছর বয়সী এই কুমিরের বাচ্চাগুলো চুরি কিংবা পাচার করে দেয়া হয়েছে। চীন-মিয়ানমার-লাওস ও থাইল্যান্ড সীমান্তের গোল্ডেন ট্রাংগল নামের আন্তর্জাতিক বাজারে কুমিরের বাচ্চার চড়া মূল্য থাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই চুরির সাথে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সুন্দরবন নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. ফরিদুল ইসলাম এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমার মনে হয় সুন্দরবনের সম্পদ চুরির পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এটা ছোট করে দেখার কারণ নেই। চুরি যাওয়া কুমিরগুলো উদ্ধার করতে হবে।

সুুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ১ ফেব্রুয়ারি সকালে কুমিরের বাচ্চাগুলো চুরি হওয়ার বিষয়টি জানার পর আমি ওইদিনই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় জড়িত বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রে বনকর্মী মাহাবুব হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া জাকির হোসেন নামে এক অস্থায়ী কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শওকত আলী বাবু/এএম/পিআর