ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

যশোরে চীনা ব্যবসায়ী হত্যায় চাচা-ভাতিজা অভিযুক্ত

প্রকাশিত: ১২:৩৬ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

যশোরে চীনা ব্যবসায়ী চ্যাং হিং সং হত্যা মামলায় দুই জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্তরা হলেন- নিহত চীনা নাগরিকের ব্যক্তিগত সহকারী ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার চকপাড়া গ্রামের মুজিবর রহমানের ছেলে নাজমুল হাসান পারভেজ (২৬) এবং তার ভাতিজা একই এলাকার রফিকুল আলম বাবুলের ছেলে মুক্তাদির রহমান রাজু (২০)।

২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর যশোর উপশহর মহিলা কলেজের সামনে ২ নম্বর সেক্টরের ৩৪ নম্বর ফরিদা ভিলা নামক বাড়িতে থেকে চীনা ব্যবসায়ী চ্যাং হিং সং এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়। পরে তাদেরকে আসামি করে মামলা করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে উদঘাটন হওয়ায় খুব কম সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আটক দুই আসামি তাদের অপরাধের কথা আদালতে স্বীকার করেছে; যা জবানবন্দি হিসেবে বিচারক রেকর্ড করেছেন।

ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, নিহত চীনা নাগরিক যশোরের ঘোপ জেল রোড বেলতলা এলাকার লিয়াকত হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি ইজিবাইকের ব্যাটারি সে দেশ থেকে নিয়ে এসে যশোরসহ আশেপাশের এলাকায় বিক্রি করতেন। তার গুদাম ছিল উপশহরের মহিলা কলেজের সামনে ২ নম্বর সেক্টরের ৩৪ নম্বর ফরিদা ভিলা নামক বাড়িতে।

নাজমুল হাসান পারভেজ নিহতের ব্যক্তিগত সহকারী হওয়ার সুবাদে তার টাকা কোথায় আছে তা সে ভালোভাবে জানতো। তার ধারণা ছিল দুই লাখ টাকার একটি চেক নেবে এবং বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পাওনা ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভারতে চলে যাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পারভেজ ঘটনার মাস দুইয়েক আগে তার ভাতিজা রাজুকে যশোরে নিয়ে আসে।

১৪ ডিসেম্বর বেলা ১২টার দিকে তিনতলা বাড়িটির নিচতলার গোডাউনে চীনা নাগরিক চ্যাং হিং সংকে টাকার জন্যে হাত পা বাঁধে সহকারী পারভেজ ও তার ভাতিজা রাজু। এরপর রড বা লোহার পাইপ জাতীয় কোনো বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত ও জখম করে।

পরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে। এরপর তার মোবাইল ফোন সেট নিজেদের কাছে বন্ধ করে রেখে দেয়। তাকে হত্যা করে দুইজনই নিহতের ঘোপ বেলতলার ভাড়া বাড়িতে যায় এবং নকল চাবি ব্যবহার করে ঘরে ঢুকে দুই লাখ টাকার চেকটি নিয়ে নেয়।

নিহতের স্ত্রী ঢাকায় থাকতেন। তিনি রাতে কয়েক দফা স্বামীকে ফোন করে না পেয়ে নাজমুলকে ফোন দেন।

তখন নাজমুল জানায়, স্যারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্ত্রী বিষয়টি থানায় অবহিত করতে বলেন। রাতে পারভেজ কোতোয়ালি থানায় এ বিষয়ে জানাতে গেলে পুলিশ তাকেই সন্দেহ করে আটকে রাখে। পরে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকারোক্তি দেয়।

সকালে তাদের সাথে নিয়ে ওই গোডাউনে যায় পুলিশ এবং মরদেহ উদ্ধার করে। সেই সঙ্গে উদ্ধার হয় দুই লাখ টাকার চেক ও মোবাইল ফোনসেট।

মিলন রহমান/আরএআর/এমএস