উদ্বোধনের ৪ বছরেও খোলা হয়নি শিশু একাডেমি
পটুয়াখালী জেলার শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে বেগবান করতে শহরের প্রাণকেন্দ্রে আধুনিক সুযোগ সম্বলিত পাঁচ তলাবিশিষ্ট শিশু একাডেমি কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করে জেলা গণপূর্ত বিভাগ।
২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্র বন্দর উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ভবনের উদ্বোধন করেন। তবে এখন পর্যন্ত ভবনটি শিশু একাডেমি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা যায়নি।
গণপূর্ত বিভাগ বলছে, ঠিকাদারের পাওনা পরিশোধ করতে না পারায়, ভবনটি হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। ফলে উদ্বোধনের চার বছরেও খুলে দেয়া হয়নি জেলা শিশু একাডেমি।
পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাহফুজ খান এবং আব্দুল আউয়াল অ্যান্ড কোম্পানি জয়েন্ট ভেঞ্চারে শিশু একাডেমির ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে। শিডিউল মোতাবেক ২৪ মাসের নির্ধারিত সময়ে ভবনের অধিকাংশ কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
প্রাথমিক পর্যায়ে ভবন নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। তবে শিডিউলে অন্তর্ভুক্ত না থাকা বাড়তি কিছু কাজ করায় নির্ধারিত নির্মাণ ব্যয় থেকে ৬৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়।
এ অবস্থায় বাড়তি এই টাকার সংস্থান করতে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে ঠিকাদারের পাওনা পরিশোধ করে ভবনটি শিশু একাডেমি কর্তৃপক্ষের কাছে তারা হস্তান্তর করতে পারবেন।
নবনির্মিত শিশু একাডেমি ভবনের প্রথম তলা প্রায় ১৩ হাজার স্কয়ার ফিট, দ্বিতীয় তলা ৭২০০ স্কয়ার ফিট এবং তৃতীয় তলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত ৫৬০০ স্কয়ার ফিট বিশিষ্ট। প্রথম তলায় ৩৫০ আসন বিশিষ্ট শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অডিটরিয়াম রয়েছে।
দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত থাকছে কনফারেন্স রুম, জেলা শিশু কর্মকর্তার কার্যালয়, ভিআইপি লাউঞ্জ, লাইব্রেরি, শিশুদের জাদু ঘর, কম্পিউটার ট্রেনিং রুম, কালচারাল ট্রেনিং রুম, ট্রেইনারের রুম। পঞ্চম তলায় থাকছে ভিআইপি গেস্ট রুম। এছাড়া কমন ও বাথরুমসহ পাঁচটি গেস্ট রুম রয়েছে।
পটুয়াখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম ফেরদৌস অর্পী বলেন, আমাদের জন্য দেশ মাতা নতুন শিশু একাডেমি ভবনটি নির্মাণ করেছেন। ভবনটি খুলে না দেয়ার কারণে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এটি আমাদের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফলে আমরা নাচ, গানের ক্ষেত্রে খুব ভালো অবদান রাখতে পারছি না। যদি নতুন ভবনটি খুলে দেয়া হয় তবে আমরা পটুয়াখালীকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম।
পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জেড়াল্ড অলিভার গুডা বলেন, প্ল্যানিং কমিশনের মাধ্যমে সংশোধিত ব্যয় ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় টাকার অনুমোদন পাওয়া গেলে ঠিকাদারের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এর এক মাসের মধ্যে ভবনের আনুষাঙ্গিক কাজ শেষে ভবনটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/আরআইপি