ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

উৎপাদন কর্মী হিসেবে নিয়োগ পেলেন সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রী

প্রকাশিত: ০৮:১৯ এএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মীরুর গুলিতে নিহত দৈনিক সমকালের সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের স্ত্রী নূরুন নাহার চাকরি পেয়েছেন।

বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এসেন্সিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে (ইডিসিএল) শিমুলের স্ত্রী নুরুন নাহারকে উৎপাদন কর্মী পদে চাকরি পেয়েছেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ইডিসিএল কার্যালয়ে গিয়ে এমডি ডা. এহসানুল কবির জগলুলের কাছ থেকে নুরুন নাহারের পক্ষে নিয়োগপত্রটি গ্রহণ করেন সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর-এনায়েতপুর) আসনের সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন।

এমপি স্বপন আগামীকাল শুক্রবার নিহত সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রীর হাতে নিয়োগপত্রটি পৌঁছে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

গত ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুর পৌর মেয়র গ্রুপের সঙ্গে ছাত্রলীগের একাংশের সংঘর্ষে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মেয়র মীরুর গুলিতে গুরুতর আহত হন সাংবাদিক শিমুল। শুক্রবার বগুড়া থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধু পশ্চিমপাড় এলাকায় তিনি মারা যান।

এরপর নিহত সাংবাদিক শিমুলের বাড়ি গিয়ে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এ সময় তিনি নিহতের স্ত্রীকে নগদ এক লাখ টাকা সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ইডিসিএলে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান (ইডিসিএল) চাকুরির নিয়োগপত্র নূরুন নাহারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সাংসদ হাসিবুর রহমান স্বপনের কাছে তুলে দেন।

এদিকে, সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং শিমুলের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর-এনায়েতপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলাম শিমুলের ছেলে-মেয়ে দুটির পড়াশোনার জন্য প্রতি মাসে পাঁচ হাজার করে টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে উল্লাপাড়া পৌর মেয়র এস এম নজরুল ইসলাম জানান, খুব শিগগিরই উল্লাপাড়া পৌরসভা থেকে নিহত শিমুলের স্ত্রীর হাতে তিনি আর্থিক সহায়তা তুলে দেবেন।

দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুলই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার ছেলে সাদিক শাহজাদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ  শ্রেণিতে ও মেয়ে তামান্না স্থানীয় একটি কেজি স্কুলে নার্সারিতে পড়াশোনা করছে। নানির দেয়া চার শতক ভিটেবাড়ি ও একটি টিনের ঘর ছাড়া শিমুলের আর কোনো সহায়-সম্পদ নেই। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বর্গায় জমি নিয়ে চাষাবাদ করতেন।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/আরএআর/আরআইপি