ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৩ দিবসে ঝিনাইদহে ৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা

প্রকাশিত: ০৫:৪১ এএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারিতে ৫ কোটি টাকার ব্যবসা করার আশা করছেন ঝিনাইদহ সদর, কলীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ফুলচাষি।

মহেশপুরের ফুলচাষি ইসলাম জানান, আমরা বর্তমানে যারা গাঁদা ফুলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের একেবারেই নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। বেশিরভাগ সময় জমিতেই সময় কাটাতে হচ্ছে। ফুলগুলো যদি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তরতাজা থাকে তাহলে আমরা ভাল দাম পাব। এ জেলায় ফুল চাষে এবার নীরব বিপ্লব ঘটেছে।

কোটচাদপুর উপজেলার এলাঙ্গী গ্রামের নূর আলী জানান, বছরের এই মাসটা আমাদের ব্যবসার মূল মাস। মাঠে একটু পরিশ্রম করলেই বেশ ভালো মুনাফার মুখ দেখা সম্ভব। দিন দিন এখানকার ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষিকাজের পরিবর্তে ফুল চাষকে পেশা হিসেবে নিয়ে ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন অনেক কৃষক। এক বিঘা জমিতে ফুল চাষ করতে খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ভাল দাম পেলে লাভ হয় প্রায় এক লাখ টাকা।

Jhendiah

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলার মধ্যে ৪টি উপজেলাতে বর্তমানে ফুল চাষ হচ্ছে। সর্বপ্রথম ৯০ এর দশকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ফুলের চাষ শুরু হয়। তারপর এ চাষ ব্যবসা সফল হওয়ায় আস্তে আস্তে সারা জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে।

আরও জানা যায়, এ ফুলের সঙ্গে সরাসরি প্রায় চার হাজার কৃষক জড়িত। এরা সারাবছরই ফুল চাষ করে থাকেন। বাকি প্রায় দেড় হাজার কৃষক অনিয়মিত ভাবে এ চাষের সঙ্গে যুক্ত। আরও আছে প্রায় ১০ হাজার নারী-পুরুষ যারা ফুল তোলা ও মালা গাঁথার সঙ্গে যুক্ত।

Jhendiah

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ মো. আকরামুল হক জানান, জেলায় এবার ফুল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জেলার স্থানীয় ফুল বাজারগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ফুল বিক্রি হচ্ছে। যা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুল বাজারের চাহিদা পূরণ করছে।

তিনি আরও জানান, জেলায় এবার প্রায় ২৫০ শ হেক্টর জমিতে নানা জাতের ফুল চাষ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ফুল চাষ হচ্ছে কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ফুল চাষ হয়েছে ১শ হেক্টর জমিতে।

Jhendiah

তিনি বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের ফুল চাষ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি এবং এর ফলে সঠিকভাবে ফুল চাষ করে তারা লাভবান হচ্ছেন।

তবে অর্থনৈতিকভাবে এ ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এলাকার কৃষকদের মাঝে দিন দিন ফুল সংরক্ষণের ব্যবস্থার জন্য সরকারি একটি কোল্ডস্টোরেজের দাবি উঠছে।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/এমএস