ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কুড়িগ্রামে স্ট্রবেরি চাষিরা হতাশ, বাজার ব্যবস্থা দুর্বল

প্রকাশিত: ১১:০৪ এএম, ০১ এপ্রিল ২০১৫

কুড়িগ্রামে স্ট্রবেরির ক্রেতা না থাকায় চাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। বাজার ব্যবস্থা দুর্বল এবং স্ট্রবেরি সংরক্ষণের অভাবে চাষিদের গুণতে হচ্ছে লোকসান। কৃষির এ খাত উন্নয়নে সরকার কিংবা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর নেই কোন কার্যকরি ভুমিকা। ফলে সম্ভাবনাময় স্ট্রবেরি চাষ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তাই দু’চার জন নিতান্তই শখের বসে স্ট্রবেরি চাষ করছেন।

সিনাই ইউনিয়নের এলজিইডি’র বাগান বাড়িতে ১০ শতক জমিতে চাষ করা হয় স্ট্রবেরি। সদ্য বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী নবিউল ইসলাম শখের বসে চাষ করেন স্ট্রবেরি। তিনি জানান, চারা লাগানো থেকে ফলন পাওয়া পর্যন্ত নিবিড় যত্ন এবং প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। সে হিসাবে উৎপাদন কম এবং বাজারে চাহিদাও নেই। ফলে অধিকাংশ নিজেদের মধ্যে বিলি-বন্টন করা হয়।

হলোখানা সন্নাসী গ্রামের শিক্ষিত যুবক ইদ্রিস আলী ২০১১ সালে জেলার একমাত্র স্ট্রবেরি চাষি ছিলেন। মাত্র ৭ শতক জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেন অর্ধ লক্ষ টাকায়। তার এ সফলতায় অনেক কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠেন স্ট্রবেরি চাষে। জেলার ৪৫ জন কৃষক স্ট্রবেরি চাষে প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তীতে স্ট্রবেরি চাষের ব্যাপ্তি ঘটলেও কৃষকরা লাভের মুখ দেখেনি। ছিল না সরকার কিংবা বেসরকারি পর্যায়ের পৃষ্টপোষকতা। ফলে ক্রমেই হ্রাস পেতে থাকে স্ট্রবেরি চাষ। অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন সম্ভাবনাময় স্ট্রবেরি চাষের মূল প্রতিবন্ধকতা বাজারজাতকরণ।

ইদ্রিস জানায়, বিএসসি পাশ করে বেকার জীবন যাপন করছিলেন তিনি। হঠাৎ একদিন পত্রিকায় স্ট্রবেরি চাষের সফলতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন পড়ে আগ্রহী হয়ে উঠেন। ২০০৯ সালের মার্চ মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এম মঞ্জুর হোসেন (স্ট্রবেরি বিশেষজ্ঞ) এর শরণাপন্ন হন তিনি। এখানে হাতে কলমে স্ট্রবেরি চাষের উপর ৩ দিনের প্রশিক্ষণ নেন।

২০১০ সালের ১ হাজার টাকায় ৫০টি চারা এনে লাগান বাড়ির উঠানে। উজ্জ্বল লাল রঙের টসটসে এই ফল দেখে নিজের মন ভরে যায়। এরপর ২০১১ সালে ৭ শতক জমিতে ১২’শ চারা লাগান। লাভ দেখে পরবর্তীতে ২০ শতক জমিতে চাষ করেন। কিন্তু এর পর থেকে লাভের পরিমাণ কমে যায় নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে। ফলে এখন নিজেদের চাহিদা মেটানোর জন্য ২/৩ শতকে চাষ করছেন স্ট্রবেরি।
জানা যায়, সারাদিন রোদ পায় বেলে দোআঁশ মাটি স্ট্রবেরি চাষের জন্য উপযুক্ত। তবে পানি জমেনা এমন উঁচু জমি হতে হবে। স্ট্রবেরি ফলে তেমন কোন রোগ-বালাই না থাকলেও পাখি এর মূল শক্র। এ কারণে স্ট্রবেরি ক্ষেত ফল আসার আগেই নেটের জাল দিয়ে ঘিরে রাখতে হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জমিতে স্ট্রবেরির চারা লাগাতে হয়।

জমিতে স্ট্রবেরি চারা রোপণের এক মাসরে মধ্যে ফুল ধরে এবং ১৫-২০ দিনের মধ্যে তা উত্তোলন করা সম্ভব হয়। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে গাছে প্রচুর ফল আসে। মার্চ মাস পর্যন্ত স্ট্রবেরি ফল সংগ্রহ করা যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি গাছে মৌসুমে কমপক্ষে হাফ কেজি ফল পাওয়া যায়।

স্ট্রবেরির পুষ্টিমান ও গুণাগুণ না জানার কারণে সাধারণ মানুষরা এ ফলের প্রতি আগ্রহী নয়। বাজারজাত করণের বড় অসুবিধা হলো পাকা এ ফল ২৪ ঘন্টায় পঁচে যায়। তবে ফ্রিজে ৭ দিন পর্যন্ত এ ফল সংরক্ষণ করা সম্ভব। আর এ কারণে বাজারজাত করণে সরকারি উদ্যোগ থাকলে কৃষকরা স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবে। স্ট্রবেরি ব্যবসায়ী ফরিদ হোসেন জানান, দিনাজপুর থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে ৫/৬ কেজি স্ট্রবেরি এনে কুড়িগ্রামে বিক্রি করছেন ১৮০/২০০ টাকা কেজি দরে। দ্রুত পঁচে যাওয়ায় অনেক সময় লোকসান গুণতে হয় তাকে।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক শওকত আলী সরকার জানান, কুড়িগ্রামের আবহাওয়া এবং মাটি স্ট্রবেরি চাষের উপযোগী। ফলে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, কপার, আয়রন, ভিটামিন বি ও সি উপাদান রয়েছে। শারিরীক দুর্বলতা কাটানো, কিডনীর পাথর অপসারন-ফোঁড়া-কণ্ঠনালীর ক্ষতরোগ, শ্বাস-প্রশ্বাস জটিলতা, জ্বর, চর্ম ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপসহ নানারোগের পথ্য হিসেবে স্ট্রবেরি খুবই উপকারী।

তিনি আরো জানান, স্ট্রবেরির চারা উৎপাদন জটিল। খরচও বেশী হয় অন্যান্য চাষের থেকে। কিন্তু বাজারে স্ট্রবেরির চাহিদা কম হওয়ায় কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কৃষি বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত স্ট্রবেরি চাষে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কারণ কুড়িগ্রামে স্ট্রবেরি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়না। যতটুকু চাষ হচ্ছে তা ব্যক্তি পর্যায়ে এবং শখের বসে।

এমজেড/পিআর