ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আ. লীগ কর্মী রঞ্জু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

প্রকাশিত: ১১:১১ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

বগুড়ার মহাস্থানে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত আওয়ামী লীগ কর্মী আনিছার রহমান রঞ্জু (৪২) হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। নেশার টাকা সংগ্রহ করার জন্যই চার বন্ধু মিলে ছুরিকাঘাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ইফতেখার আলম বিশাল (২১) শনিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মো. কামরুজ্জামানের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নিহত আনিছার সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের রহমতবালা গ্রামের মফিজ উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে।

আদালতে জবানবন্দিতে বিশাল জানান, তিনিসহ চারজন মিলে যথাক্রমে আকাশ মণ্ডল, নবিরুল  ইসলাম ও আবদুর রউফ রয়েল নেশার টাকা জোগাড়ের জন্য আনিছারের পথরোধ করে টাকা ছিনতাইয়ের পর ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যান।

শিবগঞ্জ থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, ২৫ অক্টোবর রাতে আওয়ামী লীগ কর্মী আনিছুর রহমান রঞ্জু বাইসাইকেলেযোগে মহাস্থান বন্দর থেকে মহাসড়ক হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।

এ সময় মহাস্থান ব্রিজে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে  কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন আনিছারের স্ত্রী শিল্পী বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে শিবগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ২৫ নভেম্বর তিনজনকে মহাস্থান থেকে গ্রেফতার করে।

তারা হলেন, উপজেলার নাগরকান্দি গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে আব্দুর রউফ রয়েল (৩০), মাহফুজার রহমানের ছেলে আকাশ মন্ডল (২০) ও মৃত আনছার আলী ছেলে নবিরুল ইসলাম (২২)।

তাদের কাছ থেকে পুলিশ কোনো তথ্য না পেয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এই ঘটনার কিছুদিন পর ২৬ ডিসেম্বর উপজেলার মহাস্থান বাজার নাপিত শাহীনুর রহমানকে প্রকাশ্য দিনের বেলায় হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় শাহীনের বাবা বাদী হয়ে ইফতেখার আলম বিশাল ও তার বাবা আজিজুল হকের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি বিশালকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। পরে দুইদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালালে বিশাল আনিছার হত্যার পুরো ঘটনা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

শিবগঞ্জ পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, বর্তমানে সব আসামি জেল হাজতে রয়েছেন। খুব শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

লিমন বাসার/এএম/জেআইএম