ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

স্থবির হয়ে পড়েছে শরীয়তপুর যুবদলের কার্যক্রম

জেলা প্রতিনিধি | শরীয়তপুর | প্রকাশিত: ০৪:২১ এএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

শরীয়তপুর জেলা যুবদলের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। জেলা কমিটিতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের ৩ সদস্য নিয়ে আংশিক কমিটির মেয়াদ ২ বছর আগে শেষ হলেও পদ আঁকড়ে রেখেছেন নেতারা। এতে করে বেশির ভাগ নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।

শরীয়তপুর জেলা যুবদল ৬টি উপজেলা ও ৬টি পৌরসভা ইউনিট নিয়ে গঠিত। ৬ ইউনিটের কোথাও চলমান আন্দোলনে কোনো ভূমিকা চোখে পড়েনি। বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা যুবদলের যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল তা এখন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

তৎকালীন কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মুয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নিরবের উপস্থিতিতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় সভাপতির বাসায় বসে ২০১৪ সালের ৫ মে শরীয়তপুর জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি করা হয়েছিল। কমিটিতে ইজাজুল ইসলাম মামুনকে সভাপতি, নজরুল ইসলাম লিটনকে সাধারণ সম্পাদক ও মুরাদ হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়।

এ ব্যাপারে গোসাইরহাট উপজেলা সাবেক যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মজনু বলেন, আংশিক যুবদল কমিটি হওয়ার কিছুদিন পরে সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদ হোসেন মারা যান। ২ বছর সাত মাস পার হয়ে গেলেও সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক আমাদের নিয়ে উপজেলায় কোনো বর্ধিত সভা করেননি।

শুধু তাই নয় আমাকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে শাখাওয়াত হোসেনকে নতুন যুবদলের সভাপতি পদে যুক্ত করেন।

এ ব্যাপারে জেলা যুবদলের নেতা মো. তারিকুল ইসলাম তারেক ও আলী আহম্মেদ মোল্লা বলেন, মেয়াদ উত্তীর্ণ জেলা যুবদলের কমিটি পুনর্গঠন এখন সময়ের দাবি। আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি যুবসমাজকে আগামী দিনের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে হলে ব্যক্তির ইচ্ছায় নয় জেলার সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সুপারিশক্রমে আন্দোলনের মাঠপর্যায়ের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ণ করতে হবে।

তারা আরো বলেন, তিন বছর পড়লো জেলা যুবদলের কমিটি। এই তিন বছরে ৬টি উপজেলা ও ৬টি পৌরসভা থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কমিটি করার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা।

জেলা যুবদলের সিনিয়র নেতা আরিফ উজ্জামান মোল্যা বলেন, ২০১৪ সালে জেলা যুবদলের কমিটি অনুমোদন হওয়ার পরেও কোনো বর্ধিত সভা করতে পারেননি সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক। দুই বছর জেলা যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এভাবে চলেছে।

মাঠের সক্রিয় কমিটির নেতাদের বাদ দিয়ে তাদের নিজস্ব পছন্দের ব্যক্তিদের উপজেলা ও পৌর কমিটিতে ঢুকিয়েছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পরামর্শকে পাশ কাটিয়ে তারা এসব কমিটি করে। ফলে যুবদলের সংগঠনিক কর্মকাণ্ড ঝিমিয়ে পড়ে। মাঠে যুবদলের নেতাদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

তবে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটন এসব কথা অস্বীকার করে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের আন্দোলন ও সংগ্রামে সব সময় মাঠে সক্রিয় ছিলাম। এখনো আছি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক আব্দুর জব্বার খান বলেন, ২০১৪ সালে ৩ সদস্য কমিটি করা হয়েছিল। কমিটি হওয়ার কিছুদিন পর জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদ হোসেন মারা যান। সেই থেকে সভাপতি ইজাজুল ইসলাম মামুন, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটন জেলা যুবদল পরিচালনা করছেন। এই তিন বছরে শরীয়তপুর জেলায় যুবদলের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি। আর পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা।

ছগির হোসেন/এফএ/আরআইপি