তালিকায় নেই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারও
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই শেষে ভাতাভোগী ৮০ জনসহ ১০২ জন বাদ পড়েছেন। এদের মধ্যে সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল করিম শ্যাম্পো, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম বুলু, দুই বারের নির্বাচিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শাহজাহান আলীও রয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে। এরপর শনিবার বিকেলে এ তালিকা ইউএনওর কার্যালয়ে টাঙিয়ে দেয়া হয়।
জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলায় ৪৬৩ জন মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ভাতা পেয়ে আসছেন। এর মধ্যে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য আরও ৪৪৮ জন অনলাইনে আবেদন করেন।
গত ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি শুরু হয় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম। দুদিন যাচাই-বাছাই শেষে শুক্রবার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তাতে ৮০ জন ভাতাভোগীসহ মোট ১০২ মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়েন।
মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান, সদস্য সচিব ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা শাকিলা দিল হাসিন।
এছাড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম, জামুকার প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন, মুবিমার প্রতিনিধি সদস্য মতিয়ার রহমান, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি আখতার হোসেন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম।
সোনাতলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার রফিকুল ইসলাম জানান, অনলাইনে আবেদন করা ৪৪৮ জনের মধ্যে ২৪ জন যাচাই-বাছাইয়ে টিকেছে। তাদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ভাতাভোগীদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল করিম শ্যাম্পো, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম বুলু, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শাহজাহান আলীসহ ৮০ জন বাদ পড়েছেন।
বাদ পড়া প্রসঙ্গে সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম বুলু জানান, ৭ নম্বর ও ১১ সেক্টরে যুদ্ধ করেছি। সরকারি গেজেট রয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ভাতাও পেয়েছি। অনলাইনের তালিকায় নামও আছে। তারপরও এবারের যাচাই-বাছাইয়ে বাদ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পারলাম না। আমি এ ব্যাপারে আপিল করবো।
লিমন বাসার/এএম/জেআইএম