ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পুলিশ বলছে মাদক সম্রাট ছিলেন সেই আল আমিন

প্রকাশিত: ০৪:৩৫ এএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মাদক অনেকটাই সহজলভ্য। এ জেলার মাদক ব্যবসায়ীদের সংখ্যাও কম নয়। পুলিশের তালিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শীর্ষ যে কজন মাদক ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে তার মধ্যে আল আমিন (২৮) ছিলেন অন্যতম।

তিনি জেলা শহরের কান্দিপাড়া এলাকার জিল্লু মিয়ার ছেলে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে পৌরশহরের মেড্ডাস্থ সরকারি শিশুপরিবার সংলগ্ন একটি খোলা জায়গা থেকে আল আমিনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।

মাদক ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে আল আমিন নিহত হন বলে পুলিশ দাবি করে আসলেও নিহতের পরিবারের অভিযোগ পুলিশ আল আমিনকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শহরের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বনে যান আল আমিন। বাড়ি সংলগ্ন তিতাস নদীর তীরেই ছিল তার মাদক আস্তানা। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতেই নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহযোগীদের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ করতেন তিনি।

আল আমিনের এ মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ছিল এলাকার স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। মূলত সেইসব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়াতেই নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন আল আমিন। এর ফলে এলাকায় অনেকটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন তিনি। আল আমিনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি কারাভোগও করেছেন।

তবে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আবারও মাদক ব্যবসায় লিপ্ত হন আল আমিন। আল আমিনের মাদক ব্যবসার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ইতোপূর্বে কান্দিপাড়া এলাকার শত শত উত্তেজিত জনতা তার বাড়ি ও মাদকের আস্তানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল আমিনের কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, আল আমিন একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার কারণে কান্দিপাড়া এলাকার অনেক যুবক বিপথগামী হয়েছে। সে যেভাবেই মরুক না কেন তার মৃত্যুর পর এখন এলাকার মানুষের মাঝে অনেকটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সূত্রে জানা যায়, আল আমিন প্রতিদিন পৌরশহরের টি.এ. রোডের কয়েকটি টেলিকমের দোকান থেকে বিকাশের মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা লেনদেন করেতন। এসব টাকা দিয়ে তিনি মাদক কেনাবেচা করতেন বলে ওই সূত্রটি জানিয়েছে।

সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে মেড্ডা সরকারি শিশু পরিবারের সামনে মাদক ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটানস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাদক ব্যবাসয়ী আল আমিনকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় পাইপাগান, দুই রাউন্ড কার্তুজ ও পাঁচটি ছোরা উদ্ধার করে। যাদিও আল আমিন নিহত হওয়ার দিন তার স্ত্রী তানজিনা বেগম হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তার স্বামী এক সময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পরবর্তীতে তিনি মাদক ব্যবসা ছেড়ে সুপথে ফিরে আসেন।

এদিকে আল আমিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৬ জনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, পুলিশ ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাড়ি থেকে আল আমিনকে ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে। পরদিন (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাদক ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে আল আমিন নিহত হয় বলে প্রচার করে পুলিশ।

অন্যদিকে সদর মডেল থানা পুলিশও আলমিনের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। সদর মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নারায়ণ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে দায়ের করা ওই মামলায় শহরের আরেক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আনিসুল ইসলাম খোকনসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আল আমিনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অস্ত্র মামলাটির বাদীও এসআই নারায়ণ চন্দ্র দাস।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈনুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, আল আমিন শহরের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের একজন ছিলেন। পুলিশ আল আমিনকে ধরার জন্য অভিযানে গেলেই তিনি নদী পার হয়ে পালিয়ে যেতেন।

মাঝে কিছুদিন বন্ধ রাখার পর তিনি আবারও তার মাদক ব্যবসা শুরু করেছিলেন। মাদক ব্যবসার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েই প্রতিপক্ষের সঙ্গে গোলাগুলিতে আল আমিন নিহত হন বলে জানান ওসি।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/এমএস

আরও পড়ুন