ভৈরবে ৯৩ জন মুক্তিযোদ্ধার আবেদন বাতিল
ভৈরবে অভিযুক্তসহ ৯৩ জন মুক্তিযোদ্ধার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি গত ১১ ফেব্রুয়ারি এসব মুক্তিযোদ্ধার আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে নামঞ্জুর করে।
ভৈরবে ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৩৮ জন এবং মোট মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৫০ জন। তাদের মধ্য মুক্তিযোদ্ধা নন (ভুয়া) অভিযুক্ত ছিল ৫৭ জন। যাচাই-বাছাই কমিটি তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ২৬ জনের আবেদন গৃহিত করেছে।
৩১ জন ভুয়া প্রমাণিত হলে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তালিকায় ছিল না এমন ৫৯ জন অনলাইনে আবেদন করলে ৫ জনের আবেদন কমিটিতে গৃহিত হয় এবং ৫৪ জনের আবেদন গৃহিত হয়নি। তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার আবেদন ছিল ৫৩ জন। তার মধ্য আবেদন গৃহিত হয়েছে ৪৫ জনের এবং গৃহিত হয়নি ৮ জনের।
সাময়িক সনদপ্রাপ্ত বাতিল মুক্তিযোদ্ধার আবেদন ছিল ১টি। তার আবেদনটি গৃহিত হয়েছে। ভৈরব উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি সব মিলিয়ে ১৭০ জনের আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৭৭ জনের আবেদন গৃহিত করেছে এবং ৯৩ জনের আবেদন বাতিল করেছে।
এতে ভাতাপ্রাপ্ত ৩১ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম বাতিল হয়ে যাবে। বাতিল হওয়া ৯৩ জন আবেদনকারী মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে তারা কোনো কাগজপত্র দাখিল ও স্বাক্ষ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটির ৭ জন সদস্য সভা করে আবেদনকারীদের উপস্থিতিতে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষ করার পর কমিটি ৮ দিন পর রোববার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে।
ভৈরব উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য হেদায়েতুল বারী এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহমেদ।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ভৈরব উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি মো. কামাল উদ্দিন, মুবিম`র প্রতিনিধি মো. সায়দুল্লাহ মিয়া, জামুকার প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ, জেলা কমান্ডের প্রতিনিধি মো. রুহুল আমীন।
এ ব্যাপারে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহমেদ জাগো নিউজকে জানান, গত ১১ ফেব্রুয়ারি যাচাই-বাছাই কমিটির সভায় সকলের আবেদন যাচাই বাছাই শেষ হলেও তালিকাটি নির্ভুলভাবে প্রকাশ করতে ৭ দিন সময় লেগেছে। ১৮ পৃষ্ঠার আবেদনটি লেখা, কম্পিউটারে টাইপ করাসহ নির্ভুলভাবে প্রকাশ করতেই সাতদিন বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক প্রকাশিত তালিকাটি ঢাকার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ফারুক/এমএএস/আরআইপি