ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন ইয়াংঘি লি

প্রকাশিত: ১২:৪৫ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকরা রোহিঙ্গাদের অবস্থা জানতে টেকনাফের লেদা, নয়াপাড়া ও শামলাপুর অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং নাফনদীর সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংঘি লি।

বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তিনি।

তিনি দু’দিনের সফরে কক্সবাজার এসে মঙ্গলবার প্রথম দিন উখিয়ার বালুখালীর নতুন রোহিঙ্গা বস্তিতে যান। সেখানে খতিজা বেগম, হাজেরা খাতুন, আনোয়ারা বেগম, তৈয়বা আকতার ও ছমুদাসহ ২০-২৫ নারী মিয়ানমার সেনা-পুলিশ ও মগ যুবকদের পালাক্রমে চালানো পৈচাশিকতার বর্ণনা দেন। এসময় অনেকে কেঁদে ফেলেন। নিপীড়নকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত পোয়াখালীর আবুল বাশর, নুরুল ইসলাম, জহির আহমদসহ ২০ জন নির্মম হত্যার দৃশ্যাবলী ইয়াংঘি লিকে বিবরণ দেন তারা। পরে পোয়াখালীর ওক্কাট্টা (চেয়ারম্যান) আবুল ফয়েজও তার গ্রামের উপর ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে ৩৬ ধর্ষিতা ও ৪২ জন গুলিবিদ্ধ গ্রামবাসীর তালিকা ইয়াংঘি লি’র হাতে তুলেদেন। লি স্তব্দ হয়ে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের কাহিনী শুনেন।

এসময় তাকে মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান লেদা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান দুধু মিয়া ও  সেক্রেটারি আমির হোসেন।

এছাড়াও অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ২ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করে নির্যাতনের কাহিনী শুনেন তিনি। রোহিঙ্গারা তাদের ওপর চলা রোমহর্ষক নির্যাতন কাহিনী তাকে জানান।

মিয়ানমার সেনা-পুলিশ ও রাখাইন সন্ত্রাসীদের নির্যাতন, গণহত্যা, ধর্ষণ এবং জ্বালিয়ে দেয়া ঘরের আগুনে শিশুদের নিক্ষেপ করে জীবন্ত অঙ্গার করার কথা তাকে শেয়ার করেন রোহিঙ্গারা।

এসময় জাতিসংঘের বিশেষ দূতের সঙ্গে ছিলেন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিগণ, এনজিও সংস্থা, আইওএম, ইউএনএইচসি আরের কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মায়ানমারের অভ্যন্তরে সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা হয়। এতে মায়ানমার সীমান্ত পুলিশের ১২ সদস্য নিহত হয়। এই হামলার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদের দায়ী করে নির্যাতন চালায় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের নির্যাতনে শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি রাখাইন কমিশনের তিন সদস্য উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও টেকনাফের লেদা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন। এরপর আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্ণিকাট। তিনি চলে যাবার পর আসেন তিন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ। তাদের পর রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে চার দিনের সফরে সোমবার বাংলাদেশে আসেন জাতিসংঘের এই বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার।

ওইদিনই রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এবং সিডিউল মতে মঙ্গলবার বেলা ১১টার বিমানে কক্সবাজার পৌছান তিনি। কক্সবাজারে কর্মরত ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধিরা তাকে রিসিভ করে বেলা ১টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যান। বুধবার নিয়ে যাওয়া হয় টেকনাফের অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।

নব্বই দশকের পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে অবস্থান করছে অন্তত ৪-৫ লাখ রোহিঙ্গা। নানাভাবে তাদের কারণে পর্যটন শহর ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় সম্প্রতি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের কথা জানান সরকার। এরপর থেকেই পরিদর্শনে আসা বিদেশি প্রতিনিধি দলের কাছে যেকোনো ভাবে নিজ দেশে ফিরে যাবার বাসনা প্রকাশ করছেন রোহিঙ্গারা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, অন্য বিদেশি ডেলিগেটের মতো জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ইয়াংঘি লি কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় অবস্থান নেয়া নির্যাতিক রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের দুর্দশার কথা জেনে ও যাপিত জীবন-মান দেখে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/আরআইপি