ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় হতাশ ধানচাষিরা

প্রকাশিত: ০৬:৪২ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

‘দশ গণ্ডা জমি করেছি। বীজ তলা তৈরি, রোপণ, জমিচাষ ও ধান লাগানোর খরচসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে । সামনে পানি, সার ও কীটনাশক দেয়ার খরচ রয়েছে। তারপর জমির আগাছা পরিষ্কার ও ফসল কাটার খরচ রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫ থেকে ১৬  হাজার টাকা খরচ হয়ে যাবে। উৎপাদন খরচ দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় ধানচাষ করে কোনো লাভ হয় না।’

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার পূর্বচাঁদপুর গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম জাগো নিউজকে এসব কথা বলেন।

আবুল কাশেম ছাড়াও আরো কয়েকজন কৃষক প্রায় একই কথা বলেছেন। কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, প্রতি বছর সরকার ধানের মূল্য নির্ধারণ  করে দেয়। কিন্তু তা করে শেষ সময়ে এসে। তখন কতজন এই দাম পায় ? তার আগেই তো অনেক কৃষক কম দামে ধান বিক্রি করে দেয়।

Noakhali

তিনি বলেন, সরকার যদি আগে ভাগে ধানের দাম নির্ধারণ করে দিত তাহলে আমরা একদিকে যেমন ভালো ফলনের জন্য আরো বেশি শ্রমিক লাগাতাম পাশাপাশি ধানের ভালো দাম পেতাম। কিন্তু সেটি তো করে না।

মহিউদ্দিন কামাল কয়েক বছর  দুবাইতে ছিলেন। কিন্তু সেখানে  নিয়মিত বেতন না পেয়ে দেশে ফিরে পুনরায় কিছু জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ  শুরু করেছেন।  তিনি বলেন, বিদেশ গিয়ে কিছুই করতে পারিনি। দেশে এসেও বেকার। গরীবের ছেলে আমরা। তাই আবার কৃষিকাজ করছি। কিন্তু এতেও লাভ নেই। উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। একজন শ্রমিকের মূল্য ৫০০ টাকা। আবার তাকে তিনবেলা খাওয়াতে হয়। এতে আরো যায় দুই শত টাকা। সার, পানি ও কীটনাশক খরচ তো রয়েছেই। মহিউদ্দিন কামাল  বলেন, সরকার যদি আমাদের ধানচাষে ভর্তুকি দিত তাহলে অনেক উপকার হত। আমার ধানচাষে  আগ্রহী হতাম।

কয়েকজন কৃষক জানান, সরকার ধানের দাম বৃদ্ধি করে অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমালে কৃষক বাঁচতো। এখন যেভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে কৃষকেরা মরে যাওয়ার অবস্থা।

Noakhali

নোয়াখালী কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নোয়াখালীতে ৫৮ হাজার ২৪২ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড বিভিন্ন জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে বেশি চাষাবাদ  হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে হাতিয়া ও কবিরহাট উপজেলায় অল্প সংখ্যক কিছু জমি ছাড়া বাকী ৭টি উপজেলায় এবার ৫৮ হাজার ২৪২ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল- বিরি ধান-২৮.২৯.১৬ বিনা-৮,১০সহ বিভিন্ন জাত এবং হাইব্রিড-হিরা-২, এসএস এল ৮, আলোড়ন, জাগরণ, এসিআই-২,ময়নাসহ বিভিন্ন জাতের ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে।

চলতি মৌসুমে প্রতি হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ৪.৭৫ মেট্রিক টন এবং উচ্চফলনশীল ৩.৮৬  মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাসহ সর্বমোট দুই লাখ ৫৬ হাজার ৪২১ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা  নির্ধারণ করা হয়েছে।

Noakhali

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার জাগো নিউজকে জানান, ২০০৯ সালে সরকার কৃষকদের  বীজ, সার, ডিজেল, কীটনাশক ক্রয়ে সরাসরি ভর্তূকি দিয়েছিল। পরবর্তীতে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এখন আবার যদি সেটি চালু করা সম্ভব হয় তাহলে কৃষকরা অনেক লাভবান হবেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন খালগুলো সংস্কার ও তাতে বাঁধ করা হলে সময়মতো পানি আটকে কৃষকরা বিশেষ করে মার্চ -এপ্রিল শুষ্ক মৌসুমে তাদের জমিতে পানি দিতে পারবে। এতে তাদের উৎপাদন খরচ অনেক কমে যাবে।

নোয়াখালী জেলা কৃষি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ প্রণব ভট্টাচার্য্য সেচ সংকট থাকার কথা স্বীকার করে জাগো নিউজকে জানান, বর্তমানে কৃষকের মাঠের অবস্থা খুব ভালো। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা সব সময় কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তবে সরাসরি কৃষকদের ভর্তুকি দেয়ার নিয়ম না থাকলেও কৃষিকাজে বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম ক্রয়ে সরকার বিভিন্নভাবে ভর্তুকি দিচ্ছে। যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে হাওড়  ও চরাঞ্চল এলাকায় তা ৭০ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষকরা যদি উন্নতমানের আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কৃষিকাজ করেন তাহলে উৎপাদন খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি  কৃষকরা লাভবান হবেন।   

আরএআর/আরআইপি