সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা
সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক সড়কগুলোতে পিচ উঠে গর্ত হয়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত।
রাস্তার কোথাও কোথাও ভেঙে এতোটাই সরু হয়ে গেছে যে যখন একদিকের যানবাহন পার হয় তখন অন্যদিকের যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আবার ভাঙা অংশে ঝাঁকুনি খেতে খেতে হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। কখনও কখনও গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।
সিরাজগঞ্জ-কড্ডা, সিরাজগঞ্জ-নলকা, সয়দাবাদ-এনায়েতপুর ও সিরাজগঞ্জ-রায়গঞ্জ সড়কগুলোতে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
সিরাজগঞ্জ শহরের সঙ্গে যোগাযোগের এই সড়কগুলোর এখন বেহাল অবস্থা।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে কিছুস্থানে গর্ত মেরামত করতে দেখা গেলেও কিছুদিন পর তা আবারও উঠে যাচ্ছে। 
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অফিস সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতুর কারণ সিরাজগঞ্জ জেলার এই সড়কগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শত শত বাস-ট্রাক-সিএনজি অটোরিকশা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। এ কারণে সড়কগুলো দ্রুত মেরামত করা দরকার। কিন্তু মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ-কড্ডা, সিরাজগঞ্জ-নলকা, সয়দাবাদ-এনায়েতপুর, সিরাজগঞ্জ-রায়গঞ্জ সড়কের কোথাও বিটুমিন উঠে ইট বের হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির মৌসুমে গর্তে পানি জমে থাকে। তাতে যানবাহন প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খায়। অনেক সময় বাস ট্রাক দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কের পাশ ধরে যাতায়াত করে।
সিরাজগঞ্জ জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল হোসেন দুলু জানান, সিরাজগঞ্জ জেলার সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। সড়কের অধিকাংশ জায়গায় পিচ, পাথর উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহনের ক্ষতির পাশাপাশি গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগছে বেশি। তিনি দ্রুত সড়কগুলো মেরামতের দাবি জানান।
শিয়ালকোলের সিএনজি চালক হায়দার আলী জানান, সিরাজগঞ্জের অঞ্চলিক সড়কের বেহাল অবস্থা। গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করা যায় না। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ছোট বড় অনেক গর্ত। কোথা কোথাও ভেঙে এত সরু হয়ে গেছে যে যখন একদিকের যানবাহন পার হয় তখন অন্যদিকের যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে যানবাহন অধিকাংশ সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সড়ক মেরামতের জন্য অর্থের দরকার। অর্থ বরাদ্দ না থাকায় মেরামত কাজ করা যাচ্ছে না। তারপরও সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভাগীয়ভাবে অফিসের ট্রাক দিয়ে মেরামত কাজ করা হচ্ছে।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমএএস/পিআর