ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে ৯ গ্রামের ছাত্র-ছাত্রী

জেলা প্রতিনিধি | মৌলভীবাজার | প্রকাশিত: ১১:০৩ এএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনু নদীতে একটি ব্রিজের অভাবে দশটি গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ওই ৯টি গ্রামের স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বার বার ওই এলাকার মানুষদের একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ফলে ওই এলাকার মিরপুর, পালপুর, আমুয়া, চাঁনপুর, সুমারাই, শাওইজুড়ি, ইসলামপুর, সোনাতুলা ও ওয়াবদা গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

অন্যদিকে ওই এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য নদী পারাপার করতে অনেক সমস্যা হয়। এছাড়া সাঁকো দিয়ে চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু, রোগী, বৃদ্ধা নারী-পুরুষ ও গর্ভবতী নারীরা।

স্কুলে যাতায়াতের সময় কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের এক হাতে বই ও পায়ে জুতা নিয়ে পার হতে দেখা যায়। এতে অনেকেই স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

স্কুলছাত্রী জোনাকি বেগম জানায়, মনু নদীর ওপর ব্রিজ না থাকায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে অনেকে পা পিছলে নদীতে পড়ে যায়।

Sako

কৃষক আবেদ হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি আমাদের। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা কথা দিয়ে কথা রাখেননি।

তিনি বলেন, এখানে ব্রিজ না থাকার কারণে রোগী ও এখানে উৎপাদিত কাঁচামাল বাজারে নিয়ে যেতে অনেক অসুবিধা হয়।

কাজিরবাজার আপ্তাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা প্রতিভা রানী চক্রবর্তী বলেন, আমার বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি ছাত্রছাত্রী নদীর ওপারের। নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা পারাপার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনায় শিকার হচ্ছে। এতে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে ৯ গ্রামের ছাত্র-ছাত্রী। জরুরি ভিত্তিতে নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সারাদেশে উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। তারই অংশ হিসেবে এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এখানে ব্রিজের দাবি দীর্ঘদিনের। একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবির বিষয়ে আমি স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি।

এমএএস/পিআর