শিক্ষার্থীদের চুল কাটার ঘটনায় শিক্ষক বরখাস্ত
নারায়ণগঞ্জের বন্দর একটি স্কুলের শিক্ষার্থীর চুল কাটার ঘটনায় স্কুলটির ক্রীড়া শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের চুল কাটার ঘটনায় স্কুলটির প্রধান শিক্ষককেও দায়ী করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
একই সঙ্গে এ ঘটনায় স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও ইউপি মেম্বারকে প্রধান করে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার স্কুলটিতে ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভায় ক্রীড়া শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুমকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার এমপি সেলিম ওসমান কর্তৃক নির্মিত শেখ জামাল উচ্চবিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণির অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থীর চুল কাটার ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে শেখ জামাল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ৮ম শ্রেণির ক্লাসে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন ক্রীড়া শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুম।
প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার মুন্নির নির্দেশে তিনি এ কাজটি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। ওই ঘটনার পরে ছাত্ররা লজ্জায় ও ভয়ে বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখে।
অনেকেই সেলুনে গিয়ে চুল ফেলে দিয়ে ন্যাড়া হয়ে যায়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শনিবার সকালে স্কুলটিতে ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভা ডাকা করা হয়।
শনিবার সকালে স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ধামগড় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহাম্মেদের সভাপতিত্বে ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার মুন্নিসহ ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ধামগড় ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার আবু সাঈদ, ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ফয়েজুর রহমান, ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার নবীর হোসেন, সাবেক মেম্বার মোস্তফা কামাল, সোনা মিয়া ও জামান মিয়াসহ ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ধামগড় ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার আবু সাঈদকে প্রধান করে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তাদেরকে আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ক্রীড়া শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে যারা দোষী প্রমাণিত হবেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ধামগড় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহাম্মেদ বলেন, এ ঘটনায় আমরা লজ্জিত ও দুঃখিত। তদন্ত রিপোর্টে যারাই দোষী হবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/জেআইএম