ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এই বুঝি ভেঙে পড়ে ছাদ

প্রকাশিত: ০৫:২৩ এএম, ০৫ মার্চ ২০১৭

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ২১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান।

এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার গণকা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের দুই নম্বর ভবনের পাঁচটি কক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আর পঞ্চম শ্রেণির কক্ষটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের দেয়াল, ছাদের বিম ও মেঝেতে ফাটল দেখা দেয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সারাক্ষণ আতঙ্কের মধ্যে থাকেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাকরুবা খাতুন জানায়, সব সময় ভয় ও আতঙ্কে থাকার কারণে পড়ায় মন বসে না।

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল সাইফ, আলেয়া খাতুন, জাহিদ হাসানসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাসরুমে সব সময় ভয়ে থাকি, কখন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে।

Chapainawabganj

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া খাতুনের বাবা শরিফ হোসেন জানান, স্কুলটির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোহরা খাতুন জানান, ১৯৬৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ভবনটি নির্মাণ করে। গত চার বছর পূর্বে ভবনটির ছাদের বিমে ও দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়।

এছাড়াও মৌখিকভাবে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ক্লাস চলাকালীন প্রায়শই ছাদের বিম থেকে সিমেন্ট ও খোয়া ঝরে পড়ে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে থাকে।

Chapainawabganj

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে উদ্বেগের কথা অভিভাবক ও শিক্ষকরা কমিটিকে জানিয়েছেন। কমিটি নতুন ভবনের জন্য দুইবার লিখিত আবেদন জানিয়েছে। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে অনরোধ করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন ভবন তৈরির কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামিম আহমেদ খান জানান, গণকা সারকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়টি জানিয়েছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে গণকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২৬টি বিদ্যলয়ের তালিকা পাঠানো হয়েছে।

তারা সরেজমিন তদন্ত করে যেগুলো মেরামতযোগ্য সেগুলোকে মেরামত এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলে নতুন ভবন তৈরি করবেন।

আব্দুল­াহ/এফএ/এমএস

আরও পড়ুন