চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সর্বত্রই এখন দেখা মিলবে মুকুল ভর্তি আম গাছ। বাগান মালিক, ব্যবসায়ী ও আম চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আম গাছের পরিচর্যাকে ঘিরে।
শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মঞ্জুরুল হুদা জানান, এ বছর জেলায় এখন পর্যন্ত ৯০ ভাগ মুকুল এসেছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় শতকরা ৯০ ভাগ, নাচোল উপজেলায় ৯৫ ভাগ, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৯৫ ভাগ, ভোলাহাট উপজেলায় ৮১ ভাগ ও শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৯০ ভাগ আম গাছে মুকুল এসেছে।

তিনি জানান, জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আম গাছে মুকুল ফোটা শুরু হয় এবং মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মুকুল ফোটে। দিন দিন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও মুকুল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমের গুণগত মান ঠিক রাখতে এবং গাছের পরিচর্যার জন্য আম চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি বিভাগের লোকজন। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় আম চাষিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আম চাষিদের আমের গুটিতে ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করার এবং যদি কোনো পোকা মাকড়ের আক্রমণ হয় তবে ছত্রাকনাশকের সাথে কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে এ বছর আমের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলার ৫ উপজেলায় ২৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় ২০ লক্ষটি আম গাছ রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হাজার ১১০ হেক্টর, শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৪ হাজার হেক্টর, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৩ হাজার ১০ হেক্টর, নাচোল উপজেলায় ১ হাজার ৭১০ হেক্টর ও ভোলাহাট উপজেলায় ২ হাজার ৩২০ হেক্টর বাগান। গত বছর ২৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন।
কৃষি বিভাগ জানায়, আম চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল হওয়ায় প্রতি বছরই জেলায় আম বাগান ও আম গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব ও গবেষনা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দীন জানান, আমের জন্য এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এবং রোগ বালাই নেই। তবে শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে গত বছরের চেয়ে আমের ফলন ভালো হবে।
তিনি আম চাষিদের উদ্দেশ্যে বলেন, খরার কারণে আমের গুটি যদি ঝরে পড়ে, তবে আম গাছের গোড়ায় পানি দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে তাহলে গুটি ঝরা অনেকাংশে কমে যাবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শিয়ালা মহল্লার আম বাগান ব্যবসায়ী ওবাইদুল হক ও শিবতলা মহলার কবির হোসেন জাগো নিউজকে জানান, আম বাগানে এবার প্রায় সব গাছেই পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। তাই এখন তাদের ব্যস্ত সময় কাটছে আম গাছের পরিচর্যা করে। আম চাষিরা প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে এবং আর্থিকভাবে লাভবান হবো।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ জানান, জেলায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার আম উৎপাদন হয়।
চেম্বার সভাপতি আরও জানান, জেলার প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ কোনো না কোনোভাবে আম ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আমের উৎপাদনের সঙ্গে তাদের জীবনমান নির্ভর করে। আমের ভালো উৎপাদন হলে ব্যবসা চলে প্রায় ৪ মাস।
এমএএস/পিআর