ত্বকী হত্যার চার্জশিট নিয়ে গড়িমসি
নারায়ণগঞ্জে আলোচিত ত্বকী হত্যাকাণ্ডের চার বছর পেরোলেও মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। মামলা চলছে ধীর গতিতে। যার কারণে ত্বকীর পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ। এছাড়া ত্বকী হত্যার পিছনে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকায় মামলার চার্জশিট দিতে গড়িমসি করছে তদন্তকারী সংস্থা। এমন অভিযোগ ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বির।
সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সিরাজ শাহ আস্তানার কবরস্থানে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এ অভিযোগ করেন তার বাবা।
এদিকে, মেধাবী শিক্ষার্থী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে তারা সেখানে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।
অন্যদিকে, গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষে সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল ও সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস প্রমুখ।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জুনায়েদ সাকি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের ইচ্ছায় ত্বকী হত্যার বিচার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে রয়েছে। সরকার চাইলে সাত খুনের মতো ত্বকী হত্যা মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব। চার বছর পূর্তিতেও মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। তাই অবিলম্বে ত্বকী হত্যাসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে ত্বকী শহরের শায়েস্তাখান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে ৮ মার্চ সকালে চাড়ারগোপে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
ত্বকী হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে আটজনই পলাতক। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে দুইজন আসামি ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত ভ্রমর স্বীকাররোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের চার বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত এ মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়নি।
শাহাদত হোসেন/এআরএ/জেআইএম