ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সংগ্রামী নারী সোনালি আক্তার

প্রকাশিত: ১০:৫৫ এএম, ০৮ মার্চ ২০১৭

ইচ্ছাশক্তি থাকলে কীভাবে পিছিয়ে পড়া একজন নারী সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সোনালী আক্তার। একজন সংগ্রামী নারী সম্মানে ভূষিত হওয়া যেমন গৌরবের তেমনি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সাফল্য অর্জন ও মর্যাদার।

বাবা-মায়ের চার সন্তনের মধ্যে সবার বড় সোনালী। পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে পড়ালেখায় বেশিদূর আগাতে পারেনি। এসএসসি পাস করার পর ১৯৯৭ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ক্ষুদ্র কাপড়ের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর লেখাপড়ায় অদম্য ইচ্ছার কারণে স্বামী তাকে কুমারখাীল ডিগ্রি কলেজে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্ত স্বামীরও আর্থিক দৈন্যতার কারণে লেখাপড়া করা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

kustia

বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সংসারে অভাব অনটন ছিল নিত্য সঙ্গী। পরবর্তীতে স্বামীর উৎসাহে ২০০৪ সালে থেকে কুমারখালীর বিআরডিবি থেকে মাত্র ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দুস্থ ও বেকার ৪-৫ জন নারীর সমন্বয়ে সোনালী হস্তশিল্প নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বাবার দেয়া সামান্য গহনা বিক্রি করে ব্যবসায়ে বিনিযোগ করেন।

২০০৪ সালে যখন হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তখন পরিবারের লোকজন ছাড়া কেউই বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখনেনি। অনেক কষ্টে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সদস্য সংগ্রহ করতে হয়েছে তাকে। একদিকে পূঁজির স্বল্পতা, সন্তান রেখে বাড়ির বাইরে যাওয়ার বিষয়টিও কেউই ভালো চোখে দেখতো না। সংসারে কাজের সমস্য দেখা দিলে সোনালীর স্বামী তাকে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিত। সব প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করে তিনি এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

টানা তিন বছর কঠোর পরিশ্রমের ফলে সোনালীর তৈরি শাড়ি স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকাসহ সারাদেশের বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ব্যবসা সম্প্রসারিত হতে শুরু করে। পাশাপাশি নারী সদস্য বাড়তে থাকে। বর্তমানে সোনালীর এ কারখানায় প্রায় ১২শ শ্রমিক কাজ করছে। তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি সংসারের অভাব ঘোঁচাতে সক্ষম হয়েছেন। কারখানা প্রতিষ্ঠার সময় শাড়ি তৈরির জন্য ৪-৫টা ফ্রেম দিয়ে শুরু করে বর্তমানে প্রায় ৫০০টি ফ্রেমে শাড়ি তৈরি হচ্ছে।

kustia

কারাখানায় বেতনভুক্ত ২২ জন কর্মচারী কাজ করছে। শাড়ি তৈরির পর নিপুন তুলিতে ডিজাইনে সম্পন্ন করছেন। শাড়ির থান কাপড়ে বিভিন্ন ডিজাইন একে দেয়ার পর মেয়েরো শাড়িতে চুমকি পাথর, সুতার কারুকাজ করে দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটাচ্ছেন। পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে নারীরা।

এক্ষেত্রে একজন নারী ঘরে বসে গৃহকর্মের পাশাপাশি বর্তমানে ৪-৫ হাজার টাকা উপার্জন করছে। নারীদের এমন স্বাবলম্বি ও সোনালী হস্তশিল্পের বিকাশ দেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে বেশকিছু ছোট বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কাজের স্বীকৃতিও মিলেছে সোনালীর। যুব ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রথম জয়িতা অন্বেষণে ( ২০১৩) খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মানে ভূষিত হন সোনালি আক্তার।

অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী ক্যাটাগরিতে এ কৃতিত্ব দেখান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সকল বিভাগীয় জয়িতাদের (২০১৪) সংবর্ধনা দেয়া হয়। সোনালীর দেখাদেখি কুমারখালীর বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার নারী শ্রমিক এ পেশার সাথে জড়িত থেকে অর্থনীতিতে ও পারিবারিকভাবে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

এমএএস/জেআইএম

আরও পড়ুন