নারীরাও পারে
নারীদের ক্ষমতায়নের সর্বাগ্রে যার নাম আসে তারই নামে নামকরণকৃত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)।
এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন একজন নারী মীর তামান্না ছিদ্দিকা। তিনি দেশের তৃতীয় এবং রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী প্রক্টর।
বলা হয়ে থাকে, প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য দায়িত্বশীল পদাধিকারী ব্যক্তি। আর এমন একটি গুরুত্বপূর্ণে পদে দায়িত্বপালন করছেন মীর তামান্না ছিদ্দিকা।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থির ছাত্ররাজনীতির সাথে চলা শিক্ষক রাজনীতিতে ক্যাম্পাস প্রতিনিয়তই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। ফলে প্রতিনিয়তই বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে। আর এই বডির নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন একজন নারী প্রক্টর।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার গল্প শুনাতে ‘নারী দিবস’ উপলক্ষে জাগো নিউজকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হন বেরোবির উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) মীর তামান্না ছিদ্দিকা। তার সাক্ষাৎকারটি নিচে পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো,
জাগো নিউজ : ক্যাম্পাসের আইন-শৃঙ্খলা ইউনিটের প্রধান। যদি অনুভূতি জানাতেন?
মীর তামান্না ছিদ্দিকা : নারী হিসেবে তথাকথিত পৌরাষিক দায়িত্বপালনে ভালো লাগাটা তো আছেই। আর এ জন্যই আমাকে দায়িত্বপালনে দুই ধরনের পরীক্ষা দিতে হয়। একটি নারী হিসেবে এবং আরেকটি প্রক্টরের মতো চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালনে।
জাগো নিউজ : একজন নারী হিসেবে জীবনে কোনো চ্যালেঞ্জ?
মীর তামান্না ছিদ্দিকা : নারী হিসেবে পুরোটাই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখতে পাই। যেহেতু পরিবারের সাথে ঢাকাতেই বেড়ে উঠেছি। তাই নারী হয়ে পরিবার ছেড়ে রংপুরে নিজের স্বাধীনতা নিয়ে চলাটাও আমার কাছে একটা চ্যালেঞ্জ। আরেকটি চ্যালেঞ্জ যেটা সবসময় তাড়া করে সেটা হলো; প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেকোন সাহসী পদক্ষেপেও নিতে হয়; পুরুষ হলে কাজটা আরও ভালো হতো। যেন এটা না শুনতে হয়, এটাও আমার কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
জাগো নিউজ : জীবনের কোন গল্প আপনাকে বেশি আনন্দ দেয়?
মীর তামান্না ছিদ্দিকা : ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্নাতকে উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে শহীদ সাফী ইমাম রুমী স্মৃতি বৃত্তি পুরস্কার পাওয়াটা গল্পটাই সবচেয়ে বেশি সুখ দেয়। শত ব্যস্ততার মধ্যেও সময়টার কথা মনে হলে ভালো লাগে।
জাগো নিউজ : জীবন নিয়ে কোনো হতাশা আছে কী?
মীর তামান্না ছিদ্দিকা : জীবন নিয়ে তেমন হতাশা নেই। তবে সুপ্ত একটা অপূর্ণতা রয়েই গেছে। তবে সে আশাটাও পূর্ণ হবে আশা করি।
জাগো নিউজ : বাংলাদেশ এগিয়েছে বহুদূর। নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কী ভাবছেন?
মীর তামান্না ছিদ্দিকা : নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে জটিল একটা পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি আমরা। নারীরা অনেকদূর এগিয়ে গেছে এটা যেমন সত্যি। ঠিক তেমনি নারীদের পিছিয়ে দেয়ার ঘটনাও প্রতিনিয়ত ঘটছে। নারীদের প্রতি সহিংসতার হারটা কিন্তু বেড়েই চলছে। কিন্তু এটা কমা দরকার। কারণ মেয়েরা যে হারে সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের সে পথ আরও প্রশস্ত করতে হবে।
জাগো নিউজ : এমন দিনেও নারীর প্রতি সহিংসতা। এটি কতটুকু পীড়া দেয় আপনাকে?
মীর তামান্না ছিদ্দিকা : নারীরা বহুক্ষেত্রে এগিয়েও গেলেও নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনাগুলো খুবই দুঃখজনক। হয়তো নারীরা আরও বেশি ভালো করতে পারতো। যদি নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনাগুলো কমানো যেত।
জাগো নিউজ : নারীর উন্নয়নে আপনার নিজস্ব পরামর্শ?
মীর তামান্না ছিদ্দিকা : নারীদের আরও সাহস করে সামনে নিয়ে আসা দরকার। বিশ্বাস রাখতে হবে যে নারীরাও পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা চিন্তা ভাবনায় বিশ্বাস করতে না পারবো যে, নারীরা পুরুষের সমান। ততোদিন পর্যন্ত নারী উন্নয়ন সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে পরিবার থেকেই লিঙ্গ সচেতনা বাড়ানো উচিত। পরিবার যদি ছোটবেলায় থেকেই বুঝাতে সক্ষম হয় ছেলেমেয়ে সমান। কেউ কারও থেকে ছোট নয়। তাহলেই মনে করি নারীদের উন্নয়ন করা সম্ভব।
সজীব হোসাইন/এএম/জেআইএম