ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শায়খ আবদুর রহমানের ছেলেসহ ৪ জঙ্গির রায় আজ

প্রকাশিত: ০৩:১২ এএম, ১৩ মার্চ ২০১৭

দীর্ঘ প্রায় একযুগ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফাঁসির রায়ে দণ্ডিত শায়খ আবদুর রহমানের ছেলে নাবিল রহমানসহ চার জঙ্গির মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে আজ।

আজ সোমবার কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক নুরুন নাহার বেগম শিউলী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৩টি অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার রায় দেবেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। রায়ে জঙ্গিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষ।

এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতের সড়ক, আদালত প্রাঙ্গণ এবং এর আশপাশের এলাকায় জোরদার নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করা হয়েছে।

শীর্ষ জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমানের ছেলে নাবিল রহমান ছাড়াও অপর আসামিরা হচ্ছে, জঙ্গি আলমগীর হোসেন, রঙ্গিলা ওরফে সোহেল ও মোস্তাফিজুর রহমান। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ২০০৬ সালে বিস্ফোরক আইনের মামলাগুলো পরিচালনাকারী অতিরিক্ত পিপি মো. আবু তাহের।

২০০৬ সালের ১৩ মার্চের অপারেশন

২০০৬ সালের ৬ মার্চ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে বাংলা ভাইকে গ্রেফতার করে র্যাব। এর চার দিন আগে ২ মার্চ সিলেটের সূর্য্য দীঘল বাড়ি থেকে ৩৩ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেফতার করা হয় শীর্ষ জেএমবি নেতা শায়খ আবদুর রহমানকে।

জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্য মতে ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ র্যাবের ২ শতাধিক সদস্য কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশে বিষ্ণুপুর ছোটরা ও কালিয়াজুড়ি এলাকায় অভিযান চালান। র্যাবের কাছে তথ্য ছিল জেএমবির মজলিশে শুরার সদস্য খালেদ সাইফুল্লাহ, সালাউদ্দিন, বোমা বিশেষজ্ঞ শাকিল আহমেদ ওরফে মোল্লা ওমর ও শায়খ আবদুর রহমানের ছেলে নাবিল রহমান কুমিল্লায় অবস্থান করছেন।

কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে তাদের অবস্থান জানতে না পারায় অভিযান চলে বিক্ষিপ্তভাবে। সকাল ৭টার দিকে র্যাব সদস্যরা বিষ্ণুপুরের কাজী রওশন ভিলা থেকে বোমা বিশেষজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু ওরফে আবদুস সালামকে আটক করে। এসময় ওই বাড়ি থেকে বোমা, চারটি জ্যাকেট, গ্রেনেডের ১০টি খোল, সাতটি ডেটোনেটর, বিপুল পরিমাণ গানপাউডার, সোডিয়াম সালফেট, পটাশিয়াম, নাইট্রোবেনজিন, পটাশিয়াম ক্লোরাইডসহ বোমা বানানোর যাবতীয় সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় জেএমবির সদস্য সালামের স্ত্রী খালেদা আক্তার রানী, তার দুই ছেলে তাইব ও নাজিমকে।

পরে সদস্যরা গ্রেফতারকৃত মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টুর দেওয়া তথ্য মতে কুমিল্লা শহরের দৌলতপুরের সেকান্দর ড্রাইভারের বাড়ি থেকে জেএমবির কুমিল্লা জেলার কমান্ডার রঙিলা ওরফে মহিন খান ওরফে সোহেলকে গ্রেফতার করে।

মোস্তাফিজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে র্যাব সদস্যদের জানায়, কুমিল্লা শহরের কালিয়াজুড়ি এলাকায় জান্নাতুল শাফি ভবনে শীর্ষ জঙ্গিরা অবস্থান করছে। র্যাব সদস্যরা তখন ওই বাড়ির দিকে ছুটে যান। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে বেলা ১১টার দিকে জান্নাতুল শাফি থেকে র্যাবের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়।

এরপর র্যাব সদস্যরা ওই বাড়িটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। দোতলা বাড়িটির ভেতর থেকে জেএমবির সদস্যরা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে এবং বোমায় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। সাড়ে চার ঘণ্টা গুলি বিনিময়ের সময় জেএমবি সদস্যরা সাতটি বড় ধরনের বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

মাইক দিয়ে এ সময় তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। র্যাবের আহ্বনে সাড়া দিয়ে ২টা ২৫ মিনিটে জেএমবি সদস্য আলমগীর বেরিয়ে এলে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে তাকে নিয়ে র্যাব সদস্যরা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শায়খ আবদুর রহমানের ছেলে নাবিলুর রহমান নাবিলকে বের করে আনেন। এর আধাঘণ্টা পর দোতলা ওই ভবনটিতে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মাহুতি দেয় জেএমবির সামরিক প্রধান ও বোমা বিশেষজ্ঞ শাকিল আহমেদ ওরফে মোল্লা ওমর, তার স্ত্রী সাঈদা নাঈম সুমাইয়া, শিশুকন্যা সাঈদা ও মিম।

আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের পর র্যাব সদস্যরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে বোমা বিশেষজ্ঞ শাকিল আহমেদ ওরফে মোল্লা ওমরকে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বাড়িটি তল্লাশি করে আরো ১৩টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়।  দিনভর এসব ঘটনায় ৫টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে তিনটি বিস্ফোরক আইনে এবং একটি অস্ত্র আইনে ও একটি পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করার মামলা।

এসব মামলায় ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত শায়খ আবদুর রহমানের ছেলে জামালপুরের খলিফাপাড়ার নাবিলুর রহমান নাবিল, জেএমবির এহসার সদস্য শেরপুরের সেরুয়ার শাহজাহান আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন ওরফে বিজয় ওরফে সৈকত, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়াদীয়ারীর আবদুল্লার ছেলে মো. রঙিলা ওরফে সোহেল, বোমা বিশেষজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টুকে আসামি করা হয়।

জেল থেকে নাবিলের পলায়ন ও আটক

২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠি জেলার সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাঁড়ের গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করার ঘটনায় ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ দিবাগত গভীর রাতে শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইসহ ছয় শীর্ষ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হয়।

শীর্ষ জেএমবি নেতাসহ বাবার ফাঁসির খবরে আরও বেপরোয়া ওঠে নাবিলসহ অন্যান্যরা। কুমিল্লা কারাগারে তাকে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হলেও সে সহযোগীদের নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেয় এবং সফল হয়। কারাগারের নিরাপত্তার মধ্যেই কৌশলে তারা সেলের ভেতরই চাবি তৈরি করে নেয়। সুযোগ বুঝে ২০০৭ সালের ২৬ নভেম্বর পাঁচ জঙ্গি নাবিলুর রহমান নাবিল, রেদোয়ানুল হক, মো. রঙিলা, মিনহাজ ছোটন ওরফে আমিনুল হক ও মিজানুর রহমান কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সেলের তালা খুলে দেয়াল টপকে বেরিয়ে যায়।

কিন্তু কারাগারের উঁচু দেয়াল থেকে লাফিয়ে পড়ায় সবাই আহত হয়। পরে তাদের স্থানীয় জনতা আটক করে। এ ঘটনায় আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মোট মামলা দায়ের করা হয় ৬টি। এই ছয়টি মামলা ছাড়াও কুমিল্লার আদালতে জেএমবি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে করা ১৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অন্য মামলাগুলোর মধ্যে দেবিদ্বারের তিনটি, কোতোয়ালি থানার দুটি ও মুরাদনগর থানার একটি মামলা রয়েছে।
 
২০০৬ সালে বিস্ফোরক আইনের মামলাগুলো পরিচালনাকারী কুমিল্লার অতিরিক্ত পিপি মো. আবু তাহের জানান, মামলা গুলোতে সাক্ষ্য দিতে সাক্ষীরা ভয় পায়। তাদের নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই। পুলিশও সাক্ষীদের আদালতে আনার প্রক্রিয়াগুলো কাজে লাগায় না। সমনগুলোও সঠিকভাবে জারি করা হয় না।

আবু তাহের বলেন, মামলাগুলোর তারিখের দিন ভিন্ন ভিন্ন কারাগার থেকে জঙ্গিদের আদালতে আনাও কঠিন এবং অনেক ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয় না। একসঙ্গে ১৫-২০ দিন অব্যাহতভাবে বিচার কার্যক্রম চালানো গেলে মামলাগুলোর অনেক আগেই বিচার কাজ শেষ করা যেত।
 
মো. কামাল উদ্দিন/এফএ/জেআইএম