সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত এলাকায় ফের আতঙ্ক
এক সময়ের সন্ত্রাসী জনপদ হিসেবে খ্যাত সাতক্ষীরার তালা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা আবারও সন্ত্রাসী আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর একে অন্যকে ঘায়েল করতে মরিয়া রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় অস্ত্রধারীরা ফের সংগঠিত হচ্ছে বলে অভিমত অনেকের। তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আ.লীগের নেতারা।
এদিকে, চরমপন্থি দলের নেতা বিদ্যুৎ বাছাড়ের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনার পর সন্ত্রাসীরা আবারও সংগঠিত হচ্ছে এমন আতঙ্ক মানুষের মুখে মুখে।
আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই জানিয়ে তালা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এক সময়ের সন্ত্রাসী জনপদ হিসেবে চিহ্নিত তালায় নতুন করে সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধ হতে পারবে না। এখানে দিনে-দুপুরে ফোর ফাইভ মার্ডার হয়েছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তবে বর্তমানে প্রশাসন যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। আমরাও তৎপর রয়েছি। অপরাধীদের সেই সুযোগ আর দেয়া হবে না। সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের দমন করা হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গি সব সময়ই সংঘবদ্ধ হতে চাইবে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি জেল থেকে বেরিয়ে বিদ্যুৎ বাছাড় আবারও তার সন্ত্রাসী দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। বাকি অপরাধীরাও খুব শিগগিরই ধরা পড়বে।
তালার অপর আলোচিত সন্ত্রাসী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মামলায় বর্তমানে জামিনে মুক্ত আসামি ঘোনা গ্রামের রুহুল আমিন রয়েছে প্রকাশ্যে। প্রকাশ্যে রয়েছে খড়েরডাঙ্গা গ্রামের মেছের মুন্সির ছেলে আব্দুর রহিম মুন্সি। তিনি কপিলমুনির ইউপি সদস্য বাচ্ছুকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা চালিয়ে পালানোর সময় পাটকেলঘাটা পেট্রলপাম্প এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হয়।
পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত চারটি বিদেশি বন্দুক ও গুলি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশের হাতে আটক হয় এই বাহিনীর প্রধান রহমত আলী। একটি মামলায় ১৪ বছর জেল হলেও বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন তিনি। অপর মামলা আদালতে চলমান।
গত শনিবার মধ্যরাতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত বিদ্যুৎ বাছাড় সম্প্রতি জেল থেকে বেরিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছে এসব আলোচিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে এসব ঘটনা নিশ্চিত করেছেন বেশ কয়েকজন।
সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ নেই জানিয়ে তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জাগো নিউজকে বলেন, রাজনৈতিক নেতারা বর্তমানে কেউ জড়িত রয়েছে এটা আমার মনে হয় না। তবে অতীতে যারা জড়িত ছিল বিভিন্ন সময় পত্রপত্রিকায় এসেছে। তারা গোপনে যোগাযোগ রেখেছে কিনা আমার জানা নেই।
এক সময়ের দক্ষিণাঞ্চলের ত্রাস ডুমুরিয়ার মৃণাল বাবুর আধিপত্য ছিল তালার প্রত্যন্ত এলাকায়। কয়েক বছর আগে ভারতে পতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয় মৃণাল বাবু। তবে মৃণালের সেসব অস্ত্র ভাণ্ডার ও সহযোগিরা আজও রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে। কেউ কেউ আবার দল পাল্টে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দিয়েছেন।
এমএএস/আরআইপি
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ তাহাজ্জুদের পর একটি দল ভোটকেন্দ্র দখল-সীল মারার পরিকল্পনা করছে
- ২ ভোটের দিন কোনো চিল ছোঁ মেরে ভোট নিয়ে যাবে তা হবে না
- ৩ দিল্লিতে অফিস খুলে হাসিনা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছেন
- ৪ মঙ্গলবার ময়মনসিংহ যাচ্ছেন তারেক রহমান, বিপুল সমাগমের আশা
- ৫ আজ মুক্তি মিলছে না সাদ্দামের, জামিনের চিঠি যশোর কারাগারে আসেনি