ব্যতিক্রমী আয়োজনে প্রতিবন্ধীদের বর্ষবরণ
বাংলা নববর্ষ। বাঙালির প্রাণের উৎসব। বৈশাখ কেবল একটা মাস নয়। বৈশাখ বাঙালির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য এক অংশ। বৈশাখের উৎসব হয়ে উঠছে বাঙালির ঐক্যের উৎসব। বর্ষবরণের এই দিনে বাঙালিরা মেতে ওঠে মহোৎসবে। পহেলা বৈশাখ কেবল মাত্র নুতন বছর শুরু নয়, বৈশাখ মানে মনে হয় বাঙালি জীবনের স্পন্দন।
`মানুষ মানুষের জন্য’ কথাগুলো কেবল গানে আর মুখরোচক স্লোগানের মধ্যে বেশিরভাগ সময় সীমাবদ্ধ থাকে। যদিও কখনও কখনও সমাজের কিছু মানুষ তাদের কর্মকাণ্ডে এর যথার্থ প্রতিফলন ঘটাতে পারে। কেউ কেউ তাদের আর্থিক সঙ্গতি দিয়ে আবার কেউ নিজ উদযোগে মানুষের জন্য কোনো না কোনো অবদান রাখার চেষ্টা করেন। এমনই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কাউখালী প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা আ. লতিফ খসরু।
মানুষ মানুষের জন্য এই ব্রত নিয়ে শহরের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পিরোজপুরের কাউখালীর ২ নম্বর আমরাজুড়ী ইউনিয়নের সন্ধ্যা নদীতে জেগে ওঠা নিভৃত চরবাসী প্রতিবন্ধীদের নিয়ে একটি বিশালাকৃতির রেইনট্রি গাছের নিচে বর্ষবরণের আয়োজন করেন আব্দুল লতিফ খসরু। প্রতিবন্ধীদের এই বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে ছিন্নমূল শিশুরা ছুটে আসে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে। প্রতিবন্ধী ও ছিন্নমূল শিশুরা এ সময় নেচে গেয়ে হৈ-হুল্লোড়ে মেতে ওঠে।
তিনি প্রতিবন্ধীদের জন্য নিয়ে যান নানা রঙের মাটির খেলনা সামগ্রী। আর সেই সব খেলনা সামগ্রী শিশুদের হাতে তুলে দেন নিজেই। এর আগে শিশুদের মিষ্টি, বাতাসা, মুড়ি, চিড়া, দই দিয়ে আপ্যায়ন করানো হয়।
আবাসনে বসবাসরত চরবাসী বাকপ্রতিবন্ধী শারমিনের মা মঞ্জিলা বলেন, `মোর বোহা স্বামী বোয়া মাইয়া পোলা লইয়া মোরা এই চরের আবাসনে থাহি। খসরু ভাই মোগো চরে বেইন্নাকালে আইয়া মোর মাইয়া পোলা ও হগল মাইয়া পোলারে মাডির খেলনা দেছে, খাওয়াইছে। মুই ও মোর মাইয়া পোলারা হেইতে খুশি।`
প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সামাজিক উদ্যোক্তা আব্দুল লতিফ খসরু বলেন, কোনো কিছু চাওয়া বা পাওয়ার জন্য আমি এই কাজটি করিনি। গভীর এক দায়বোধ ও স্নেহ মমতা ও ভালবাসার তাগিদে এবং ওদের সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য আমার এই উদ্যোগ। শহরের মানুষ যখন সবাই সবাইকে নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ওদের একটু আনন্দ দিতে নিভৃত চরবাসী প্রতিবন্ধী ও ছিন্নমূল শিশুদের নিয়ে এ বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করতে পেরে আমি আনন্দিত।
কাউখালীর বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুব্রত রায় বলেন, খসরু ভাই প্রতিবন্ধী ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। যা আমাদের সকলের জন্য অনুকরণীয়।
এ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের অভিভাবক এবং নানা পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে বাক প্রতিবন্ধী শারমিন নৃত্য পরিবেশন করেন।
এসএস/একে/আরআই