জঙ্গি আস্তানায় মিললো শিশুর মরদেহ
সীতাকুণ্ডের প্রেমতলায় জঙ্গি আস্তনায় বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন এক শিশুর মরদেহ পেয়েছে পুলিশ। ওই বাড়িতে এ নিয়ে এক নারী ও তিন পুরুষসহ মোট পাঁচজনের মরদেহ পাওয়া গেল।
বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দোতলা বাড়িটিতে গতকাল বুধবার রাত থেকেই অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ভেতরে আটকা পড়া ব্যক্তিদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য আজ সকাল ৬টায় অভিযান শুরু করা হয়।
অভিযানকালে পাশের ভবন থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছোড়া গুলিতে এক জঙ্গি নিহত হয়। বাড়ির ভেতরে থাকা জঙ্গিরা আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তিন জঙ্গি নিহত হয়। সব মিলিয়ে চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। আর ওই শিশুর মরদেহ পাওয়া যায় পরে। সবমিলে পাঁচজনের মরদেহ পাওয়া গেল।
সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউর রহমান বলেন, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল কাজ করতে গিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই বাসার সিঁড়িঘরে নারী জঙ্গির পাশে এক শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটি ওই নারী জঙ্গির। শিশুটির বয়স পাঁচ থেকে ছয় মাস হতে পারে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি জানান, নিহত চার জঙ্গির মধ্যে দুজনের হাত, পা ও মুখমণ্ডল বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তাদের চেহারা বোঝার উপায় নেই। বাকি দুজনের চেহারা বোঝা যাচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল থেকে এ পর্যন্ত তিন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ছায়ানীড় বাড়ি থেকে আজ মোট ২০ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির ভেতরে আর কোনো বাসিন্দা নেই।
ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, বাড়ির ভেতরে থাকা সব জঙ্গি নিহত হয়েছে। জঙ্গিরা যে ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিল, সেখানে বিস্ফোরক রয়েছে। বাড়ির ভেতরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িটিতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরুর পর ব্যাপক গোলাগুলি ও প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অভিযানকালে বাড়িতে আটকে পড়া সাধারণ বাসিন্দাদের বের করতে ভবনের পেছনের জানালার গ্রিল কাটার তথ্য জানায় পুলিশ। পরে একেক করে ২০ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়।
গতকাল বেলা সাড়ে ৩টা থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাত ১১টা পর্যন্ত বাড়ির ভেতর থেকে তিন দফায় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছুড়ে মারে জঙ্গিরা। এতে পুলিশের এক কর্মকর্তা আহত হন। জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে পুলিশও কয়েক দফা গুলি ছোড়ে।
এর আগে বিকেল ৫টা ও সন্ধ্যা ৬টায় দুই দফা ওই বাড়িতে থাকা জঙ্গিদের বের হওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। তবে ভেতর থেকে জঙ্গিরা সাড়া দেয়নি।
বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সোয়াত টিম। ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সঙ্গে সঙ্গে অভিযান শুরু না করে অ্যাসেসমেন্ট করেন সোয়াত কর্মকর্তারা। পরে দিনের আলো ফোঁটার পর শুরু হয় ‘অ্যাসল্ট-১৬’ নামের এই অভিযান।
এএম