ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এছাহাক আলীর পরিকল্পনায় পীর ও পালিত কন্যা খুন

প্রকাশিত: ০৮:৫৩ এএম, ১৮ মার্চ ২০১৭

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে পীরসহ জোড়া খুনের ঘটনায় ছয়জন সরাসরি অংশ নেয় বলে জানিয়েছেন দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম।

তিনি বলেন, আটক দুই জনের জবানবন্দি অনুযায়ী মনস্তাত্মিক দ্বন্দ্ব থেকেই কুড়িগ্রামের পীর এছাহাক আলীর পরিকল্পনা মোতাবেক খুন করা হয় বোচগঞ্জের পীর ফরহাদ হাসান চৌধুরী ও তার পালিত মেয়ে রুপালী বেগমকে। আর এদের সহযোগিতা করেন কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরিফের খাদেম সাইদুর রহমান।

শুক্রবার রাতে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার হামিদুল আলম এসব কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ফরহাদ হোসেনের দরবার শরিফের মুরিদদের নামাজ পড়তে হবে এবং দিন দিন সেখানে মুরিদদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কুড়িগগ্রামের পীর এছহাক আলীর হিংসার জন্ম হয়। এছাড়াও ফরহাদ হোসেন চৌধুরী এছাহাক আলীর কাছ থেকে অর্থ পাওনাদার ছিলেন। একই সঙ্গে এছাহাক আলীকে ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে নিষেধ করেছিলেন ফরহাদ হোসেন চৌধুরী।

এসব নিয়েই  এছাহাক আলীর সঙ্গে ফরহাদ হাসান চৌধুরীর দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এ কারণে ফরহাদ হোসেন চৌধুরীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এছাহাক আলী। হত্যার এই পরিকল্পনা হয় ১২ মার্চ এসহাক আলীর নিজ বাড়িতে। সেখানে ওরছ শেষে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় ও পরের দিন এর বাস্তবায়ন করা হয়।

dinajpursp

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো পিস্তলে ব্যবহার করা হয়েছিল। হত্যার ঘটনায় যে ছয় খুনি অংশগ্রহণ করে তারা সবাই দিনাজপুর জেলা ও দরবার শরিফের আশেপাশের। এদের মধ্যে একজনের নামে মামলাও রয়েছে।

এদিকে, নিহতদের ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে গুলিবিদ্ধ হয়ে তারা নিহত হয়েছেন। যে দুজন জবানবন্দি দিয়েছেন তারা জানিয়েছে, প্রথমে পাঁচজনের একটি দল সেই দরবার শরিফে প্রবেশ করে। সেখানে সহযোগিতা করে দরবার শরিফের খাদেম সাইদুর রহমান। এসময় রুপালী বেগমকে মুখ চেপে ধরে একটি ঘরে রাখা হয়।  পরে তারা ফরহাদ চৌধুরীর ঘরে প্রবেশ করে নাকে মুখে বালিশ চাপা দেন। এসময় ফরহাদ চৌধুরী নিস্তেজ হয়ে পড়লে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তারা বেরিয়ে এসে রুপালী বেগমকেও গুলি করে হত্যা করে।

সংবাদ সম্মেলনে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাহফুজ জামান আশরাফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিজানুর রহমান, কাহারোল সার্কেল এসপি রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ  রাত ৮টার দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা এলাকায় কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী ও তার পালিত মেয়ে রুপালী বেগম গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ফরহাদ হোসেন চৌধুরী দিনাজপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি ছিলেন দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। পরে ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হন।

এমদাদুল হক মিলন/আরএআর/এমএস