ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এসপির তৎপরতায় আতঙ্কে মাদক ব্যবসায়ীরা

জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ০৪:২৭ এএম, ২৩ মার্চ ২০১৭

ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মাদকের ছড়াছড়িটা একটু বেশিই। পুলিশের কাছে থাকা এ জেলার মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকাটাও দীর্ঘ। তবে বর্তমান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমানের তৎপরতায় অনেকটাই দমে গেছেন জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা।

ইতোমধ্যে পুলিশের সঙ্গে ‘কথিত’ বন্দুকযুদ্ধে তিন মাদক ব্যবাসায়ী নিহত ও দুই মাদক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাকি মাদক ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন আতঙ্কে।

‘মাদক ব্যবসায়ীদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হবে, মাদক ব্যবসায়ীদের যেখানে-সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা প্রযোজনে বাড়তে থাকবে’- এসপি মিজানুর রহমানের এমন হুঁশিয়ারির পর বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। বন্দুকযদ্ধে নিহত মাদক ব্যবসায়ীদের পরিবারের অভিযোগ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে তাদের।

যদিও পুলিশ সুপার বলেছেন, ‘কোনো অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে পরিবারের লোকজন তার পক্ষ হয়ে বিভিন্ন রকমের কথা বলার চেষ্টা করে। কোনো আইন মেনে যুদ্ধ করা যায় না’।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০১৫ সালের ৭ জুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যোগাদন করেন মো. মিজানুর রহমান। যোগদানের পরপরই মাদকের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন তিনি। ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হয় আমি থাকবো না হয় মাদক থাকবে’- এমন ঘোষণাও আসে এসপি মিজানুর রহমানের মুখ থেকে।

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে প্রথমে এসপি মিজানুর রহমান বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মাদকবিরোধী সভা করেন। এসব সভায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে সকলকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধভাবে মাদক প্রতিরোধের আহ্বান জানান এসপি মিজানুর রহমান।

পরবর্তীতে মাদক বিরোধী সভা থেকে পুলিশের উপস্থিতিতেই উত্তেজিত জনতা বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি-ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। এতেও দমেনি মাদক ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি পুলিশের সঙ্গে ‘কথিত’ বন্দুকযুদ্ধে তিন মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যু ও অপর দুই মাদক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাকি মাদক ব্যবসায়ীদের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ শিকার হওয়ার ভয় তাড়া করে ফিরছে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে জেলা শহরের মেড্ডাস্থ সরকারি শিশু পরিবারের পাশের একটি খোলা জায়গা থেকে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আল আমিনকে (২৮) পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় ৩টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে আল আমিন নিহত হন দাবি করলেও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ ছিলো পুলিশ আগেরদিন বিকেলে আল আমিনকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে রাতে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় অবশ্য নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈনুর রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।

এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শ্যামলী ঘাট এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় (৪১) এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের লোকজন মরদেহ শনাক্ত করেন। নিহত ব্যক্তির নাম মোশাররফ হোসেন। তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দড়িবাঞ্ছারামপুর গ্রামের আবদুল বাতেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর থানায় ৭টি মাদক মামলা ছিল।

২ মার্চ ভোররাতে বিজয়নগর উপজেলার মেরাসানি গ্রামের একটি বাজারে পুলিশের সঙ্গে ‘কথিত’ বন্দুকযুদ্ধে নুরুল ইসলাম (৪২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। তার বিরুদ্ধে থানায় ৫টি মাদকের মামলা ছিলো বলে জানায় পুলিশ।

১৭ মার্চ সকালে কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় (৩৭) এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশ থেকে ৩৫ বোতল ফেনসিডিলও উদ্ধার করা হয়। পরে এদিনই নিহত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন তার পরিবারের লোকজন। নিহত দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু জেলার আখাউড়া উপজেলার আজমপুরের কৌড়াতলীর মহরম আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ নানা অভিযোগে ১১টি মামলা ছিলো বলে জানায় পুলিশ।

সর্বশেষ ১৮ মার্চ ভোররাতে কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের হাজীপুর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘কথিত’ বন্দুকযুদ্ধে জহিরুল ইসলাম ওরফে কালা জহির (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। পুলিশের ভাষ্যমতে, বন্দুকযুদ্ধের আগের দিন (১৭ মার্চ) সকালে কাল জহিরকে গ্রেফতার করা হয়। পরেরদিন ভোররাতে জহিরকে নিয়ে হাজীপুর এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গেলে তার সহযোগীরা পুলিশের উপর গুলি চালাতে থাকে।

এসময় নিজেদের আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে জহিরের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বিরদ্ধে আইনমন্ত্রী অ্যাড. আনিসুল হকের গ্রামের বাড়িতে ডাকাতি ও মাদকসহ নানা অভিযোগে ৬টি মামলা রয়েছে।

তবে মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, যখনই কোনো অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় তখন পরিবারের লোকজন তার পক্ষ হয়ে বিভিন্ন রকমের কথা বলার চেষ্টা করে।

আমাদের বিরুদ্ধে যতরকমের অভিযোগ আছে সেগুলোকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হয়। আমরা আইনের মধ্যে থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেয়ার চেষ্টা করছি।

এফএ/পিআর