পাকশীতে প্রথম প্রতিরোধ গড়েন সাধারণ মানুষ
জীবন থেকে অনেক কিছু মুছে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের সময়ের স্মৃতি ভুলা যায় না। আমরা খবর পেলাম ২৫ মার্চ সারা দেশের মতো পাকবাহিনী অপারেশন সার্চলাইট বাস্তবায়নের জন্য অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঈশ্বরদী-পাকশীতে আসবে।
পাকশীতে রেলওয়ে বিভাগীয় অফিস থাকার কারণে সহজেই ঢাকার খবর পাওয়া যেত। দেশব্যাপী রেলওয়ের নেটওয়ার্কটি সক্রিয় ছিল বেশ।
কথাগুলো বলছিলেন, ওই সময়ের টগবগে তরুণ মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম হব্বুল। নিজ বাড়ির সামনে বসে সেই সময়ের অনেক কথাগুলো বললেন এই সাহসী যোদ্ধা।
২৫ মার্চ দিবাগত রাত আড়াইটায় রাজশাহী থেকে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের এক কোম্পানি পদাতিক সৈন্য পাবনায় আসে। ওই কোম্পানির কমান্ডিং অফিসার ছিল ক্যাপ্টেন আসগর ও ডেপুটি কমান্ডিং অফিসার ছিলেন লে. রশিদ।
এই দলে কোনো বাঙালি আর্মি ও ইপিআর ছিল না। ফলে তারা রাজশাহী থেকে পাবনায় আসার পথে বিভিন্ন জায়গায় গুলিবর্ষণ করে। আমরা সব সময় রেলওয়ের কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ রাখতাম, সহজে খবর পাওয়া যেত।
৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর থেকে আমরা রেলওয়ের মাঠে ট্রেনিং নিতাম। এতে নেতৃত্ব দিতেন প্রয়াত কোম্পানি কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম মন্টু, আব্দুর রশিদ, মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম।
হাবিবুল ইসলাম আরও বলেন, আমরা পুরো মার্চ জুড়ে মিছিল, মিটিং, সমাবেশ করতাম। রাত জেগে লাঠিসোটা, রাইফেল, রিভলবার নিয়ে টহল দিতাম। প্রথমে পাকশীতে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলে সাধারণ মানুষ।
আমাদের সাথে আব্দুর রহিম টেনু, মোহাম্মদ রশীদুল্লাহসহ অনেকে ছিলেন। পাকশী বাজারের মেরিনপাড়ায় একটি ঘরে বোমা বানাতে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী মাহাবুবুল আলমের দুই হাতের কবজি উড়ে যায়।
এই বোমের বিকট শব্দে এলাকায় থাকা অনেক অবাঙালি ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তখন রেলওয়েতে চাকরির সুবাদে পাকশীতে অনেক অবাঙালি থাকতো। যারা পাকবাহিনীর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করতো।
২৯ মার্চ নগরবাড়ি ঘাট হয়ে পাবনার ভেতর দিয়ে ঈশ্বরদী হয়ে পাকবাহিনীর একটি সুসজ্জিত গাড়ি বহর রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় মাধপুর গ্রামের ঐতিহাসিক বটতলায় শামসুর রহমান শরিফ, ইউসুফ আলী চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আমরা দুই নালা, একনলা বন্দুক, কাটা রাইফেল, ফালা, শর্কি ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।
কিন্তু পাকসেনাদের ওসব অস্ত্রের কাছে আমরা একেবারেই দুর্বল ছিলাম। এখানে তরুণ ছাত্রনেতা রাজু, ওহিদ বিশ্বাস, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল গফুর, নবাব আলী প্রমুখ শহীদ হন।
১১ এপ্রিল পাকসেনারা ঈশ্বরদী-পাকশীতে প্রবেশ করে। তারা মর্টারশেল, বোমা ও গুলি বর্ষণ করতে করতে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পাকসেনাদের আগমনে অবাঙালিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
তারাও বাঙালি নিধন শুরু করে, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ তো ছিলই। তারপর আমরা সংগঠিত হয়ে প্রথমে ভারতের কেচুয়াডাঙ্গা ট্রেনিংয়ে চলে যাই। এরপর শিলিগুড়ি পানিঘাটা হয়ে ট্রেনিং শেষে দেশে আসি। শুরু হয় আমাদের প্রতিরোধযুদ্ধ।
আলাউদ্দিন আহমেদ/এএম/জেআইএম
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ দাঁড়িপাল্লাকে জয়লাভ করানো সবার ঈমানী দায়িত্ব: শাহরিয়ার কবির
- ২ দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘সন্ত্রাসীদের’ গুলিতে মিরসরাইয়ের টিপু নিহত
- ৩ বিএনপি প্রার্থী ফজলুর রহমানের জনসভায় চেয়ার ছোড়াছুড়ি, আহত ২০
- ৪ ৮০% মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না
- ৫ দেশ পরিচালনায় তিন শর্তে ঐক্যের ডাক দিলেন জামায়াত আমির