ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নদী রক্ষা বাঁধের মাটি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায় : ৩ গ্রামে আতঙ্ক

প্রকাশিত: ১২:১৭ পিএম, ৩০ মার্চ ২০১৭

কক্সবাজারের রামুতে বাঁকখালী নদীর রক্ষা বাঁধ কেটে ইটভাটায় মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিবা-রাত্রি এসব মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে দেড় ডজনাধিক মিনি ট্রাক। প্রশাসনের আতাতে কয়েকজন প্রভাবশালী পরিবেশ বিধ্বংসী এ কাজ করায় কেউ প্রতিবাদের সাহস পাচ্ছেন না।

ফলে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার চাকমারকুলের ৪ গ্রামের ৩ শতাধিক পরিবার। আগামী বর্ষায় রক্ষা বাঁধ তলিয়ে গিয়ে নদীর তীরবর্তী গ্রাম ও শিক্ষা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন গ্রামবাসী।

তবে অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পরবর্তী সময় পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১২টি মিনিট্রাক জব্দ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।

Coxbazar

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাকমারকুল ইউনিয়নের একাধিক ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী জানান, রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপাড়া, কলঘর বাজারের দক্ষিণ পাশে এবং পশ্চিম পাড়ার বাঁকখালী নদীর রক্ষা বাঁধের মাটি কেটে সাবাড় করছে শক্তিশালী একটি চক্র।

স্থানীয় মিয়াজীপাড়ার মোজাহেরুল হকের ছেলে জিয়াউল হক সওদাগর ও নতুন চরপাড়ার ছিদ্দিক আহমদের নেতৃত্বে কয়েকজন প্রভাবশালী দেড় ডজনাধিক মিনি ট্রাক দিয়ে দেদারছে মাটি কেটে বিক্রি করছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। এ গ্রুপটির বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায়না। উল্টো প্রভাবশালী এ চক্রটির বিরুদ্ধে মাটি কাটা বন্ধে প্রচেষ্টা চালিয়ে মামলার শিকার হয়েছেন একাধিক জনপ্রতিনিধি।

স্থানীয়রা জানান, দিনরাত বিরামহীনভাবে মাটি কাটার কারণে বাঁকখালীর রক্ষা বাঁধ তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেভাবে মাটি কাটা হয়েছে বর্ষায় হুমকির মুখে পড়বে ৩ শতাধিক পরিবার, বিস্তীর্ণ ক্ষেত, মসজিদ, কবরস্থান, মাদরাসা, ২টি বিদ্যালয়, নুরানী মাদরাসা, হেফজখানা। এভাবে ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ প্রতিবেশ। তাদের এ কর্মকাণ্ডে প্রায় ২ কিলোমিটার নদীর পাড় ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে।

Coxbazar

চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার জানান, নদীর পাড় কাটার ব্যাপারে জিয়াউল হক গ্রুপের সঙ্গে প্রশাসনের আর্থিক গোপন চুক্তি থাকায় তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমার ২ জন মেম্বারের বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এমনটি হয়ে থাকলে আমাদের কি করণীয় আছে বলুন?

মাটি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাবার পর রামু উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি নিকারুজ্জামানের সহযোগিতায় মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মাটি কাটায় ব্যবহৃত ১২টি মিনিট্রাক (ডাম্পার) জব্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তদন্তে এসেছে চাকমারকুলের জিয়াবুল হক সওদাগরের নেতৃত্বে প্রভাবশালী চক্রটি ২০১১ সাল থেকে বাঁকখালীর বিভিন্ন পাড় থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ দিয়ে আসছে। মাটি কাটায় ব্যবহৃত ১২টি ডাম্পার জব্দের ঘটনায় জিয়াবুল হক সওদাগরসহ সহযোগিদের বিরুদ্ধে পৃথক আইনে একাধিক মামলা করা হচ্ছে। পরিবেশ ধ্বংসকারীরা প্রভাবশালী হলেও ছাড় পাবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এমএএস/জেআইএম