আদালত থেকে হত্যা মামলার নথি গায়েব
গোপালগঞ্জে আদালত থেকে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ সাদিয়া জাহান তুলি হত্যা মামলার সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরার নথি গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা জজ মো. নাজির আহমেদের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আদালতের বেঞ্চ সহকারী কাজী নজমুল ইসলাম ও সেরেস্তা সহকারী মহর উদ্দিন ফকিরকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দুদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে পৃথকভাবে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চরমানিকদাহ গ্রামের মফিজুর রহমান পাপা মোল্লার ছেলে পুলিশ কনস্টেবল মশিয়ার রহমান তার স্ত্রী সাদিয়া জাহান তুলিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
পরদিন ২৮ নভেম্বর তুলির বাবা মো. নিসার উদ্দিন মোল্লা বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ থানায় মশিউর রহমানসহ ছয়জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
ইতোমধ্যে ওই মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও ১৬ জনের জেরা সম্পন্ন হয়। গতকাল বুধবার (২৯ মার্চ) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জেরার দিন ধার্য ছিল।
আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক অতিরিক্ত জেলা জজ মো. নাজির আহমেদ মামলার সাক্ষীদের গৃহীত সাক্ষ্যের নথিটি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরও বেঞ্চ সহকারী এবং সেরেস্তা সহকারী নথিটি বিচারককে সরবরাহ করতে পারেননি। এ সময় তিনি বিব্রতবোধ করেন এবং এজন্য দুঃখ প্রকাশ করে আদালতের কার্যক্রম মুলতবি করেন। পাশাপাশি আগামী ১৭ মে তদন্ত কর্মকর্তার জেরার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন বিচারক।
গোপালগঞ্জ জেলা জজ আদালতের এপিপি অ্যাড. শহীদুজ্জামান পিটু বলেন, এ মামলার নথি হারিয়ে যাওয়া উদ্দেশ্যমূলক। মামলার চূড়ান্ত পর্যায় এসে আকস্মিকভাবে নথি হারিয়ে যাওয়ার পেছনে রহস্য রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে মামলাটি ব্যাহত করার জন্য একটি চক্র আদালতের অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে কাজটি করেছেন, যা ফৌজদারি অপরাধের শামিল।
অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ওই আদালতের মুখপাত্র এসকে শওকত আলী বলেন, এ বিষয়টি জেলা ও দায়রা জজকে অবিহিত করা হয়েছে। এছাড়া বেঞ্চ সহকারী কাজী নজমুল ইসলাম ও সেরেস্তা সহকারী মহর উদ্দিন ফকিরকে এ ব্যাপারে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে। দুইদিনের মধ্যে তাদের পৃথকভাবে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন একটি মামলার নথি গায়েব হয়ে যাওয়ার ফলে মামলার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কাজী নজমুল ইসলাম ওই সময়ও বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এস এম হুমায়ূন কবীর/এএম/জেআইএম
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ বিএনপি নেতার অফিস লক্ষ্য করে গুলি-ককটেল বিস্ফোরণ
- ২ তেল নিতে গিয়ে পাম্পের কর্মচারীদের পিটুনিতে যুবক নিহত
- ৩ রাজশাহীতে ঈদগাহের ইমাম নিয়োগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, একজনের মৃত্যু
- ৪ ফরিদপুর শহরে ঘুরে ঘুরে ৭ মার্চের ভাষণ বাজালেন যুবলীগ কর্মী
- ৫ বিভিন্ন মিডিয়া আওয়ামী লীগকে স্ট্যাবলিশ করার এজেন্ডা হাতে নিয়েছে