ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বগুড়ায় ওসির আত্মহত্যায় সাবেক স্ত্রী রিমান্ডে

প্রকাশিত: ০২:৫০ পিএম, ৩১ মার্চ ২০১৭

বগুড়ার গাবতলী মডেল থানা পুলিশের ওসি আ ন ম আবদুল্লাহ আল হাসানকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সাবেক স্ত্রী রুমানা আকতার মিতুর (২৫) ও তার বাবা মোকসেদ আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বাড়ি পাবনা শহরের শালগাড়িয়া এলাকার।

বৃহস্পতিবার রাতে পাবনা শহরের শালগাড়িয়ার গ্রামের নিজবাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) সনাতন চক্রবর্তী গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাবা ও মেয়েকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আদালতের বিচারক শরিফুজ্জামান শুনানি শেষে রুমানা আকতার মিতুর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে বুধবার রাতে ওসি হাসানের বড় স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া রোজী বাদী হয়ে গাবতলী মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

গাবতলী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানান, রোজী তার স্বামীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনায় বাধ্য করার অভিযোগে সাবেক স্ত্রী মিতুর বিরুদ্ধে গাবতলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মিতু ছাড়াও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মিতুকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য জানা যাবে বলে তিনি জানান।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, ওসি হাসান দ্বিতীয় স্ত্রী মিতুকে তালাক দিলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাকে পাবনায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাটও কিনে দেন। তার সাবেক ও বর্তমান স্ত্রী বগুড়ায় আসতে চাইলে তিনি বিপাকে পড়েন।

জানা গেছে, আ ন ম আবদুল্লাহ আল হাসান নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কদমতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলীর ছেলে। তিনি গত ২০১৫ সালের ২ অক্টোবর পাবনা সদর থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন। তার স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া রোজী পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া ছেলেকে নিয়ে রাজশাহীর উপ-শহরে বসবাস করতেন।

ওসি হাসান পাবনা থাকাকালে শহরের শালগাড়িয়ার মোকসেদ আলীর মেয়ে রুমানা আকতার মিতুর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

এক পর্যায়ে তাকে বিয়েও করেন। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। গত বছরের ৪ নভেম্বর রোজী পাবনা থানা কোয়ার্টারে এসে ওসি হাসান ও মিতুকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করেন। পরে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটি চাপা দিতে ৫ নভেম্বর ওসি হাসানকে জয়পুরহাটে বদলি করেন।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি বগুড়ার গাবতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগ দেন। গাবতলী থানার সরকারি কোয়াটারেও ওসি হাসান একাই থাকতেন।

এআরএ/পিআর