ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

প্রাচীন নিদর্শন আটিয়া মসজিদ সংস্কারের দাবি

প্রকাশিত: ০৬:০২ এএম, ০১ এপ্রিল ২০১৭

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় প্রায় দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও ৪শ বছরের পুরনো টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া জামে মসজিদটির সংস্কার হয়নি। মসজিদটির তত্ত্বাবধানে থাকা জাতীয় প্রত্নতত্ত বিভাগের কাছে বারবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হলেও অদৃশ্য কারণে কর্তৃপক্ষ এটি সংস্কারের কোনো উদ্দোগই নিচ্ছে না। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এছাড়াও অনুমতি না থাকায় এলাকাবাসী মসজিদটিও সংস্কার করতে পারছে না। প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে ঐতিহ্যবাহী আটিয়া জামে মসজিদটি স্থান পেয়েছে উইকিপেডিয়াতেও। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে মসজিদটির নানা কথা।

এক সময় মসজিদটিকে দেশবাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর খোরশেদ আলম দায়িত্বে থাকাকালীন দশ টাকার নোটের মধ্যে এই আটিয়া মসজিদটির ছবি মুদ্রণ করেন। তবে পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তন ও সদিচ্ছার অভাবে পরিবর্তন করা হয় মসজিদটির ছবি।

জানা যায়, দেলদুয়ার উপজেলা সদর থেকে মসজিদটির দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। ১৬০৯ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন করটিয়ার জমিদার সৈয়দ খান পন্নী। এরপর ১৮৩৭ সালে মসজিদটি সংস্কার করেন দেলদুয়ার জমিদার বাড়ির সদস্য রওশন খাতুন চৌধুরাণী। পরে দেলদুয়ারের জমিদার আবু আহম্মদ গজনবী ও করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নীসহ কয়েকজন মিলে ১৯০৯ সালে পুনরায় মসজিদটি সংস্কার করেন।

চুন, শুরকির নির্মিত মসজিদটির পূর্ব-উত্তর পাশে রয়েছে সুনিপুন দুর্লভ কারুকার্য। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪২ ফুট, প্রস্থ ৩২ ফুট এবং উচ্চতা ৪৪ ফুট। একটি বড় আকৃতির গম্বুজসহ মোট ৪টি গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের দেয়াল ৮ থেকে সাড়ে ৮ ফুট প্রসস্থ।

মসজিদের বর্তমান ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আহাম্মেদ জানান, ২০০১ সালের পর মসজিদটির চুনকামও করা হয়নি। এর ফলে বিভিন্ন অংশে শেওলা পড়ে কালো হয়ে গেছে। দেয়ালের ইট বালি খসে পড়ছে, মসজিদটির প্রধান গম্বুজের একটি অংশ ভেঙে পড়ায় বৃষ্টি হলে মসজিদে পানি পড়ে। এ কারণে বিশেষত বর্ষাকালে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

Atia

ইমাম আরও জানান, গত বছর জাতীয় প্রত্নতত্ত বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় প্রধান সরেজমিন পরিদর্শনকালে মসজিদটি সংস্কারের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছিলেন কিন্তু আশ্বাস এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারের বিভিন্ন দফতরে স্থানীয় এমপি ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হলেও কার্যত তা বৃথা যাচ্ছে। সামনে বর্ষকাল আসার আগেই জরুরি ভিত্তিতে মসজিদটির সংস্কার প্রয়োজন।

দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন কবির জানান, মসজিদটি প্রত্নতত্ত বিভাগের অধীনে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ কিছুদিন আগে পরিদর্শন করে গেছেন। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন লিখিত ভাবে তাদের জানানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারবে না।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম ফেরদৌস আহামেদ জানান, আটিয়া পরগনার জমিদারের কথা দেশবাসী জানে। আর তাদের আমলে নির্মিত এই মসজিদটি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দশ টাকার নোটের মধ্যে মুদ্রণ করে। তবে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্নতত্ত বিভাগ মসজিদটির প্রতি কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। প্রাচীন এই নিদর্শন মসজিদটি রক্ষার্থে সরকারের যত্নবান হওয়া উচিৎ বলেও মনে করেন তিনি।

মসজিদটি দেখার জন্য এখনও অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে ভিড় করেন। এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীরা জরুরি ভিত্তিতে মসজিদটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/এমএস