ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কটিয়াদীতে অপহরণের মামলা নিয়ে ওসির কাণ্ড

প্রকাশিত: ০১:৫৯ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৭

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থানায় একই নম্বরে দুটি মামলা রেকর্ডের ঘটনায় সমালোচনার ঝড় বইছে। দুটি মামলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের। এফআইআর ফরমে প্রথমটির সিরিয়াল নং- ০১৭১৩৭১৩ আর দ্বিতীয়টির সিরিয়াল নং- ০১৭১৩৭১৪। সময়ের ব্যবধান মাত্র সাড়ে সাত ঘণ্টা।

দুটি মামলাই রেকর্ড করেন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ। এখানেই শেষ নয়, প্রথম মামলাটি রেকর্ডের কয়েক ঘণ্টা পর একই নম্বরে রেকর্ড করা হয় দ্বিতীয় মামলাটি।

নিয়মানুযায়ী কোনো অবস্থাতেই দুটি মামলার নম্বর এক হতে পারে না। আর মামলা রেকর্ডের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার এফআইআর’র মূল কপি পাঠাতে হবে আদালতে। নিয়ম মেনে দ্বিতীয় মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী পাঠানো হয়েছে আদালতে। তবে প্রথম মামলাটির এখন আর কোনো হদিস নেই।

অভিযোগ রয়েছে ওসি নিজেই গায়েব করেছেন মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে বাবা আসাদ মিয়া বাদী হয়ে দায়ের করা প্রথম মামলাটি! শুধু তাই নয়, এ মামলায় আটক প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গিয়েও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে থানা থেকে ছেড়ে দেন তিনি। আর মামলার এফআইআর বই থেকে ছিঁড়ে ফেলা হয় প্রথম দায়ের করা মামলার কপি।

অপহরণের শিকার মেয়েটিকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সিভিল সার্জন অফিসে পাঠানো হলেও আসামিদের সঙ্গে যোগসাজস করে ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই তাকে আবারও থানায় ফেরত আনা হয়। তুলে দেয়া হয় বাবা আসাদ দিয়ার কাছে।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহর বিরুদ্ধে এমনি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর অভিযুক্ত কর্মকর্তার দাবি এটা কোনো অবস্থাতেই প্রমাণ করা যাবেনা।

জানা গেছে, বাদী আসাদ মিয়ার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে একই গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে রবিন মিয়া (১৯), আলামিন (২৫) ও জমির উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. তরুনা বেগমের নামে গত ২২ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়।

কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ মামলাটি রুজু করে এসআই মো. মইন উদ্দিনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেন।

মামলার বাদীপক্ষের লোকজন এরই মধ্যে থানা থেকে এফআইএর কপি সংগ্রহ করে। ঘটনার পর মামলার প্রধান আসামি রবিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মেয়েটিকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে।

kkk

কিন্তু পরক্ষণই বদলে যায় পরিস্থিতি! একজন পুলিশ সদস্যসহ ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে পাঠানো ভিকটিমকে মাঝপথ থেকে থানায় ফিরিয়ে নেয়া হয়। মেয়েটিকে তুলে দেয়া হয় বাবার হাতে। আর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওইদিন গভীররাতে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয় মামলার আসামি রবিনকে।

অভিযোগ রয়েছে, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেকর্ডভুক্ত মামলার কপি কোর্টে পাঠাননি। এমনকি ২২ জানুয়ারি রাত ১২টা ১৫ মিনিটে রুজু হওয়া মামলার (মামলা নং -১৩, এফআইআর ফরমের সিরিয়িাল নং- ০১৭১৩৭১৩) এফআইআর বই থেকে প্রাথমিক তথ্য বিবরণীর পাতাটি ছিড়ে ফেলেন।

এদিকে এ ঘটনার সাড়ে সাত ঘণ্টা পর একই নম্বরে কটিয়াদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপর একটি মামলা রেকর্ড করা হয়। (মামলা নং -১৩, এফআইআর ফরমের সিরিয়িাল নং- ০১৭১৩৭১৪)।

এ মামলার বাদী কটিয়াদী উপজেলার ভোগপাড়া গ্রামের কুদ্দুছ মিয়ার মেয়ে পারভীন আক্তার। গত ১০ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ( জেলা জজ) মো. আওলাদ হোসেনের নির্দেশের প্রেক্ষিতে ২২ জানুয়ারি রাত পৌনে ৮টায় এ মালাটিও রেকর্ড করেন কটিয়াদী থানার ওসি মো. আহসান উল্লাহ।

মামলার বাদী মো. আসাদ মিয়া জানান, তার নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে একই এলাকার মৃত আফাজ মিয়ার ছেলে রবিন মিয়া (১৯) উত্যক্ত করতো। গত ২১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে তার মেয়েকে রবিনের নেতৃত্বে কয়েকজন সহযোগী অপহরণ করে।

তিনি বলেন, এদিন থানায় এজাহার দেয়ার পর রাতেই মামলাটি রেকর্ড করা হয়। পরদিন দুপুরে আমার মেয়ের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য একজন কনস্টেবল আমাকেসহ কিশোরগঞ্জ যান। কিন্তু সিভিল সার্জন অফিসে পৌঁছার আগেই আমাদের সঙ্গে থাকা কনস্টেবলের কাছে ফোন আসে। তখন আমার মেয়ের মেডিকেল পরীক্ষা না করিয়েই কিশোরগঞ্জ জেলাখানা মোড় এলাকা থেকে মেয়েসহ আমাকে কটিয়াদী থানায় ফিরিয়ে নেয়া হয়। বিকেলের দিকে কটিয়াদী থানায় গিয়ে দেখতে পাই মামলার আসামি রবিনসহ তার আত্মীয়দের। তখন ওসি সাহেব আমার মেয়েকে নিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলেন। পরে শুনেছি রাতে আসামি রবিনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এরপর থেকে আমি আর কিছুই জানিনা।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ প্রথমে ফোন ধরে বলেন, ভাই আমি একটু ব্যস্ত আছি। ৫ মিনিট পর আপনাকে ফোন দিচ্ছি। এরপর তিনি আর ফোন করেন নি এই প্রতিবেদককে।

শনিবার দুপুরে তাকে আবার ফোন দেয়া হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কোনো একটি গ্রুপ আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা এটা প্রমাণ করতে পারবেনা।

ওই মামলায় প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেও ছেড়ে দেয়া এবং ভিকটিমকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানোর পরও তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপার প্রশ্ন করলে তিনি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান। আবারও বলেন, একটা মিটিংয়ে আছি। আপনাকে কিছুক্ষণ পর ফোন দিচ্ছি।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমএএস/জেআইএম