পাহাড়ে বৈসাবি ঘিরে জমছে কেনাকাটা
পাহাড়ে বৈসাবি উৎসব ঘিরে জমছে কেনাকাটা। পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী এই প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি (বৈসুক, সাংগ্রাইং, বিজু) ঘিরে কেনাকাটায় চাঙ্গা স্থানীয় অর্থনীতি। বাজার ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত মেলায় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি চলছে উৎসবের কেনাকাটা।
প্রতিবছর চৈত্রসংক্রান্তির বাংলাবর্ষ বিদায় এবং বরণ উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়গুলো তিন দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করে। ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবটি পালিত হয় ২৯-৩০ চৈত্র ও পহেলা বৈশাখ অর্থ্যাৎ ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল।
উৎসবটিকে চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাইং, ত্রিপুরারা বৈসুক, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, রাখাইনরা চাংক্রান ও অহমিয়া জাতিগোষ্ঠী বিহু নামে পালন করে থাকে। ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাইং এবং চাকমাদের বিজু’ এর আদ্যাক্ষর নিয়ে উৎসবটির সংক্ষিপ্ত নামকরণ বৈসাবি।
রাঙামাটির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের ভিড়। উৎসব আয়োজন ও আপ্যায়নে প্রস্তুতির জন্য গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীরা ব্যস্ত গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটায়। আর তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোররা ব্যস্ত জামাকাপড় ও মনোহরি সামগ্রী কিনতে। কেনাকাটা চলছে সকাল থেকে রাত অবধি। তবে মেলাসহ স্টেশনারি, কাপড় ও মনোহরি দোকানে কেনাকাটা জমে বিকেলের পরপরই।
এদিকে প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসব ঘিরে স্থানীয় বাজারে চলছে কেনাকাটার ধুম। শুক্রবার সকালে রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজি, মুদি ও মসলার বাজারে হুলুস্থুল কেনাকাটা। পাজন তৈরির জন্য কেনাকাটা চলছে সবজির।
দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম থেকে সবজি বিক্রি করতে আসা ফুলমতি চাকমা বলেন, গত কয়েকদিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার টাকা করে নিজের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করেছেন তিনি। সবজি বিক্রির এসব টাকায় মোটামুটি বিজুর আয়োজন হবে তার পরিবারে।
ক্রেতারা জানান, পাজন তৈরির জন্য যথেষ্ঠ সবজি কিনে সংগ্রহ করতে হয়। একদিনে সবগুলো সবজি মেলে না।
বনরূপার এইচবি প্লাজার কাপড়ের দোকানি ডিকসেন চাকমা, মনোহরি দোকানি বখতিয়ার ও বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, এবার উৎসব উপলক্ষে যথেষ্ট বিক্রি হচ্ছে। তবে কলেজছাত্রী শিপা চাকমাসহ ক্রেতারা বলেন, অনেক দোকানে বিভিন্ন জিনিসের দাম হাঁকা হচ্ছে নাগালের বাইরে এবং অতিরিক্ত।
এদিকে বৈসাবি উৎসবকে ঘিরে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিট প্রাঙ্গণ, রাজবাড়ির কেকে রায় সড়কের জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে মেলা। রাঙামাটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে আয়োজিত মাসব্যাপী মেলা শেষ হবে ১১ এপ্রিল। 
রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী মেলা বসানো হয়েছে এর প্রাঙ্গণে। ৮ এপ্রিল শেষ হবে এ মেলা। মেলায় বসানো হয়েছে পাহাড়িদের নিজস্ব সংস্কৃতির পোশাক, অলংকার, খাবারসহ বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রির প্রদর্শনী ও বিক্রয় স্টল। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে মঞ্চ নাটক ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
রাঙামাটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চাকমা বলেন, মেলাটি আয়োজনের মাধ্যমে আশাব্যঞ্জক বিক্রি হওয়ায় অর্থনৈতিক উপার্জন যথেষ্ট ভালো হয়েছে উদ্যোক্তাদের। পাশাপাশি বিজু উৎসব উপলক্ষে সুলভে কেনাকাটার সুযোগ হয়েছে স্থানীয় লোকজনের।
সুশীল প্রসাদ চাকমা/এফএ/এমএস