ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মনের আলোয় পরীক্ষা দিচ্ছেন মফিদুল

প্রকাশিত: ১১:৩১ এএম, ০৮ এপ্রিল ২০১৭

পত্রিকা বিক্রির অর্থ দিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মফিদুল ইসলাম (১৯)। চোখের আলোয় নয়, মনের আলোয় শ্রুতি লেখক নিয়ে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

মফিদুল বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুরের সৈয়দ আহম্মদ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। গাবতলী উপজেলার তেলিহাটা পাচানিপাড়া এলাকার মৃত কলিম উদ্দিনের তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মফিদুল ইসলাম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।

জানা গেছে, মফিদুলের বাবার সামান্য ভিটেমাটি ছাড়া কোনো জায়গা জমি নেই। তার অন্য দুই ভাই সাংসারিক কাজকর্ম করেন। একমাত্র বোনকে পাঁচ বছর আগে বিয়ে দেয়া হয়। মফিদুল ট্রেনে পত্রিকা বিক্রি করেন। বগুড়া শহর থেকে প্রতিদিন ভোরে পত্রিকা নিয়ে ট্রেনে ওঠেন তিনি। দিনভর বিভিন্ন ট্রেনে পত্রিকা বিক্রি করে বাবার অভাবের সংসারের হাল ধরেছেন। পাশাপাশি পত্রিকা বিক্রির কিছু অর্থ দিয়ে তিনি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

মফিদুল বগুড়া শহরের একটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠান থেকে দুই বছর আগে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে মানবিক বিভাগ থেকে ৩.৭২ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি সোনারায় তসলিম উদ্দিন তরফদার কলেজে ভর্তি হন। চলতি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তার রোল নং-৩৫০৩৬৬। তিনি সুখানপুকুরের সৈয়দ আহম্মদ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন।

শনিবার পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মফিদুল প্রতিদিনের মতোই শ্রুতি লেখককে প্রশ্নের উত্তর মুখে বলে দিচ্ছেন আর শ্রুতি লেখক তা পরীক্ষার খাতায় লিখছেন। এমনকি বানান পর্যন্ত বলে দিচ্ছেন। শ্রুতি লেখক খাদিজা আক্তার একই গ্রামের খাজা প্রামাণিকের মেয়ে ও পার্শ্ববর্তী এমআরএম উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

মফিদুল জানান, আজ ছিল ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। এর আগে সম্পন্ন হওয়া তিনটি পরীক্ষা তিনি বেশ ভালোই দিয়েছেন। কিন্তু আজকের পরীক্ষা তেমন ভালো হয়নি।

লিমন বাসার/আরএআর/জেআইএম