ভারত-বাংলাদেশ পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু
সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারত, নেপাল. ভুটান এবং মিয়ানমারে রেলপথে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের চুক্তি অনুযায়ী দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত দিয়ে ডুয়েল গেজ রেলপথে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য পরিবহন শুরু হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে দিল্লিতে বসে রাধিকাপুর স্টেশনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যৌথভাবে বাণিজ্যিক ওই রুট উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরে বেলা ১টা ৫০ মিনিটে দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত দিয়ে ৪২টি তেলের ওয়াগনে ইন্ডিয়ান হাই স্পিড ডিজেল (জ্বালানি) নিয়ে পণ্যবাহী একটি ট্রেন বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নিমানগর তেল রিফাইনারি ডিপো থেকে ট্রেনটি যাত্রা করে। ট্রেনটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের দিনাজপুরের পার্বতীপুর তেল ডিপো পর্যন্ত যায়। এ পণ্যবাহী ট্রেনে মোট দুই হাজার ২০০ মেট্রিক টন জ্বালানি ছিল। পরে ট্রেনটি বিরল রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে যাত্রা বিরতি করে, সেখানে মালামালগুলো পরীক্ষা করেন ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা।
এর আগে সকাল ৮টার দিকে জ্বালানি বোঝাই ওয়াগনগুলো নিয়ে আসতে বাংলাদেশ থেকে একটি ইঞ্জিন ভারতে প্রবেশ করে। পরে সব ধরনের কার্যক্রম শেষে দুপুরে ট্রেনটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এখন থেকে এই রেলপথে জ্বালানি, পাথরসহ সব ধরনের পণ্য পরিবহনের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশের মধ্যে দ্রুত পণ্য পরিবহন খরচ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত ভারত এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত মিটার গেজ রেলপথে নেপাল, ভারত এবং মিয়ানমায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে মধ্যে সীমিতসংখ্যক পণ্যবাহী ট্রেন চলত বিরল রেলপথ দিয়ে। ২০০৬ সালে ভারত রাধিকাপুর পর্যন্ত ব্রড গেজ রেলপথ স্থাপন করায় রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছিল ওই রুটে।
এর আগে গত ৮ মার্চ ভারত থেকে ৪২টি ওয়াগনে দুই হাজার ৪৭২ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে একটি ট্রেন বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
এমদাদুল হক মিলন/আরএআর/আরআইপি