ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ম্যালেরিয়ার ভয়

প্রকাশিত: ০৫:১৫ এএম, ২৫ এপ্রিল ২০১৫

কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলাকে ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু ভারতের গারো পাহাড় ঘেঁষা সীমান্ত এলাকা হওয়ার কারনে এ দুই উপজেলা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানা গেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে।

২০০৭ সাল থেকে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে নানা কর্মসূচী, রোগী সনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা প্রদান করায় ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকাকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ম্যালেরিয়া মুক্ত ঘোষণা করা যাবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। আর এসব তথ্য জানা গেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সূত্রে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের ১৩টি জেলার ৭০টি উপজেলাকে ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর ওই তালিকায় কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার নাম রয়েছে।

ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ঘেঁষা এই দু’উপজেলার প্রায় ৪৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত গ্রামের মানুষের সঙ্গে ভারতের গারো পাহাড় এলাকার মানুষের যোগাযোগ ও চলাফেরা রয়েছে। আর এ কারণে পাহাড় থেকে জীবাণু বহন করছে সীমান্তবাসীরা। আবার জীবাণুযুক্ত মশাও ঢুকছে সীমান্ত এলাকায়। এ কারণে এসব অঞ্চলকে সহজেই ম্যালেরিয়া মুক্ত ঘোষণা করা যাচ্ছে না বলে জানালেন আইএসিআইবি সংস্থার আঞ্চলিক ম্যানেজার শামসুল দোহা।

শামসুল দোহা আরও জানান, ২০০৭ সালে যখন রৌমারী ও রাজীবপুরে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে তাদের কার্যক্রম শুরু হয় তখন ম্যালেরিয়ার অবস্থা ছিল ভয়াবহ । প্রথম দু’বছরে দুইজন ম্যালেরিয়ায় মারা গেলেও পরবর্তীতে আর কেউ মারা যায়নি। তাদের কার্যক্রমের ফলে ম্যালেরিয়া রোগী ও আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে। যা বর্তমানে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মুক্ত ঘোষণা করা যাচ্ছে না। কেননা চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত দু’উপজেলায় ৩ হাজার ২৫ জনের রক্ত পরীক্ষা করে ১ জনের শরীরে ম্যালেরিয়ার পজেটিভ জীবাণু পাওয়া গেছে।

রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকতা ডা. আব্দুল মাবুদ জানান, আগের চেয়ে ম্যালেরিয়া রোগী কমে গেলেও মাঝে মাঝে নতুন রোগীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে।  আর যাদের শরীরে ওই জীবাণু পাওয়া যাচ্ছে তাদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়। কেননা দেওয়াগঞ্জের তিন ইউনিয়নের মানুষ চিকিৎসা সেবার জন্য রাজীবপুর হাসপাতালের ওপর নির্ভর করে। তাছাড়া দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলাতেও রয়েছে সীমান্ত এলাকা।

রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহজাহান কবীর জানান, ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী মানুষের শরীরেই কেবল ম্যালেরিয়া জীবাণু পাওয়া যাচ্ছে। পাহাড়ের বন জঙ্গল থেকে জীবাণুযুক্ত মশায় আক্রান্ত হচ্ছে সীমান্তের মানুষ। এ কারণে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মুক্ত ঘোষণা করা যাচ্ছে না।

এসএস/এআরএস/এমএস