ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক দাবিদার দুইজন

প্রকাশিত: ০১:৫০ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০১৭

রাজবাড়ী জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নে ভবদিয়ায় আলহাজ আবদুল কমির উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দাবিদার এখন দুজন শিক্ষক। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্থানীয় বখাটের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন দুই শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষকের দাবিদার হচ্ছেন, অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ হোসেন ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জতিশ চন্দ্র দত্ত।

রোববার দুপুরে আলহাজ আবদুল কমির উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় প্রধান শিক্ষকের সমস্যা সমাধান নিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর মহল আশরাফী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, স্থানীয় চেয়ারম্যান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক ও বর্তমান সদস্য, অভিভাবকসহ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে এক আলোচনা সভা হয়।

এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর মহল আশরাফী জানান, বিদ্যালয় হচ্ছে পবিত্র স্থান, এ স্থান কলঙ্কিত করার কারও অধিকার নেই। গতকাল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বখাটেদের দ্বারা শিক্ষকদের যে লাঞ্ছনার খবর তিনি শুনেছেন তার বিচার হবে।

এদিকে, অবসের যাওয়া প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ হোসেন পুনরায় মেয়াদ বাড়িয়ে তার পদে বহাল থাকা এবং ৫ এপ্রিল থেকে দায়িত্ব নেয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিষয় নিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তার সমধান অবশ্যই হবে।

আর কমিটি নিয়ে যেহেতু বর্তমানে আদালতে পৃথক ৩টি মামলা রয়েছে তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়। এছাড়া বর্তমানে বিদ্যালয়ের কোনো কমিটি এখন কার্যকর নেই। তাদের সব ধরনের কার্যক্রম এখন বন্ধ থাকবে।

প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ হোসেন জানান, সরকারের নিয়মানুযায়ী ৪ এপ্রিল ২০১৭ সালে তিনি অবসরে যান। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে গঠিত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ১৭ অক্টোবর ২০১৬ তাকে দুই বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি চূড়ান্ত করে।

ওই কমিটির সাতজন সদস্য ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর ২০১৬ সালে পদত্যাগ করেন। গত ১ এপ্রিল ২০১৭ আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।

এর প্রেক্ষিতে ৮ এপ্রিল বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষকদের একপক্ষের ইন্ধনে স্থানীয় বখাটেরা তাকে অফিস কক্ষে ঢুকতে বাধা দেয় এবং লাঞ্ছিত করে।

এদিকে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জতিশ চন্দ্র দত্ত বলেন, প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়াতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের সর্বসম্মতিক্রমে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করি ৫ এপ্রিল ২০২৭ সালে।

বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র শেখ সুমন সবুজ জানান, গতকাল তার ছোট ভাইকে স্কুলে দিতে এসে দেখেন অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক স্কুলে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশে বলেন, আমি তোমাদের প্রধান শিক্ষক অন্য কেউ না। এরপর তিনি অফিস কক্ষে ঢুকতে গেলে অজ্ঞাত ব্যক্তি বাধা দেন।

এ সময় ওই শিক্ষক ফোনের মাধ্যমে বহিরাগতদের ডেকে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন এবং ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি করেন।

অপরদিকে, আরেক সাবেক ছাত্র রাজা মোল্লা বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির ফরিদ উদ্দিন শেখের কাছে আত্মীয়সহ কয়েক জন মিলে গতকাল স্কুলে ডুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন এবং সন্ত্রাসীদের মতো আচরণ করেন।

রুবেলুর রহমান/এএম/জেআইএম