সিরাজগঞ্জে নদীর তলদেশে চলছে শস্য উৎপাদন
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ফুলজোড় ও ইছামতি নদীতে জেগে উঠা চরে ধান ও গমের আবাদ শুরু হয়েছে। করতোয়ার শাখা নদী ফুলজোড় ও যমুনার শাখা নদী ইছামতির বুক জুড়ে ধান, গম, সরিষা, কলাই চাষ বেশ কয়েক বছর ধরে শুরু করেছে স্থানীয় কৃষকেরা।
এলাকা ঘুরে ফুলজোড় ও ইছামতি নদীর তলদেশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এমন দৃশ্যই এখন চোখে পড়ে।
জানা যায়, এ নদী দুটির তীরবর্তী চান্দাইকোনা ইউনিয়নের তবারীপাড়া, শ্যামগোপ, ঘুড়কা ইউনিয়নের ভুইয়াগাঁতী, চরতেলিজানা, ফরিদপুর, সাহেবগঞ্জ, কায়েমগ্রাম, নলকা, ব্রহ্মণবাড়িয়া, কালিঞ্জায় রীতিমত নদীর তলদেশে চাষাবাদ হচ্ছে। করতোয়া নদীর রায়গঞ্জ অংশের চান্দাইকোনা থেকে নলকার আলোকদিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং যমুনার ইছামতি নদীর ব্রহ্মগাছা থেকে পাঙ্গাসী হয়ে নলকা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটারের প্রায় সবকটি নদীর তলদেশে চলছে শস্য উৎপাদন। অল্প সংখ্যক জায়গায় গভীরতা বেশি থাকায় এখনও সেসব স্থানে চাষযোগ্য হয়ে ওঠেনি।

ঘন বসতির দেশে খাদ্যের চাহিদা বাড়ায় নদীর তলদেশে শস্য উৎপাদনে এক শ্রেণির কৃষক ও খাদ্য বিশেষজ্ঞরা খুশি হলেও পরিবেশ ও পানি বিশেষজ্ঞরা শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। দিনদিন এ নদী দুটির নাব্যতা অস্বভাবিভাবে হ্রাস পাওয়ায় হয়তো তলদেশ শস্য উৎপাদনের উপযোগী হচ্ছে। কিন্তু ভাঙা গড়ার স্বাভাবিক নিয়মকে বাধাগ্রস্ত করে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, যত্রতত্র বালু মহাল ইজারা, একপাড় ভেঙে অন্য পাড়ে জেগে ওঠা চরে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের নামে আদর্শ গ্রাম, গুচ্ছগ্রাম, আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মাণের ফলে নদী সংকুচিত হওয়ায় পানি প্রবাহের স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ফলে গড়ে তোলা আদর্শ গ্রাম, গুচ্ছগ্রামের বিপরীত তীর বেপরোয়া গতিতে ভাঙনের কবলে পড়ছে। এছাড়াও নদী থেকে বের হওয়া গুরুত্বপূর্ণ খাল-ফুলজোড় নদীর ভুইয়াগাঁতী খাল, সাহেবগঞ্জ হার্ট সংলগ্ন খাল, চান্দাইকোনা হাইস্কুল সংলগ্ন কেশরখালির খাল, দরবস্ত খাল বন্ধ করে দেয়ায় নদীর নাব্যতা দ্রুত হ্রাসের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এ দুটির নদীর নাব্যতা হ্রাস পেয়ে তলদেশ কেবল ভরাটই হচ্ছে না, ফুলজোড় নদীর তীর চান্দাইকোনা ইউনিয়নের এক অংশের সিমলায় পশ্চিম তীরে আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করায় পূর্ব তীর, তবারীপাড়া পূর্ব তীরে আদর্শ গড়ে তোলায় পশ্চিম তীর, শ্যামগোপে পশ্চিম তীর, ঘুড়কা ইউনিয়নের পশ্চিম তীরে আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলায় পূর্ব তীর, নলকা ইউনিয়নের তিননান্দিনা পূর্ব তীরে আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলায় পশ্চিম তীর এবং ঘুড়কা থেকে সাহেবগঞ্জ পুরান বাজারের নদীর কোল ঘেসে ব্যাপক ভাঙনের কবলে পড়েছে। ফলে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক নিয়মে ভাঙা-গড়ার পরিবর্তে অস্বাভাবিকভাবে বিস্তীর্ণ ভূমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে অন্যদিকে নদীর প্রশস্ততা কমে যাওয়ায় অনায়াসে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।

শুধু তাই নয় ভাঙনের কবলে পড়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের সাহেবগঞ্জ বাজার ও একই মহাসড়কের ভুইয়াগাঁতী শ্বাশানঘাট এলাকা ওই মহাসড়কের দাথিয়াদিগর তবারীপাড়া এলাকার নদী ভেঙে মহাসড়কের কাছাকাছি চলে আসায় মহাসড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিবেশ ও পানি বিশেষজ্ঞরা নদী দুটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য চর জেগে উঠলেই বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করে গ্রাম পাড়া গড়ে তুলে নদীর প্রশস্ততা না কমানো, পরিকল্পনা মতো নাব্যতা কমাতে ড্রেজিং প্রকল্প গ্রহণ এবং বালুগ্রাসীদের ইচ্ছেমতো যত্রতত্র বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাজমুল হক জানান, এক সময় ফুলজোড় ও ইছামতি নদীর জায়গাগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন ছিল। বর্তমানে সরকারি খাস খতিয়ানে আসলেও জমির পূর্ব মালিকরাই ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছে।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমএএস/আরআইপি