বর্ষবরণে সাংগ্রাই উৎসব শুরু
পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব সাংগ্রাই শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় রাজার মাঠ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটি মারমাদের উৎসব হলেও প্রত্যেক জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে এ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছেন। যা মহামিলনে পরিণত হয়েছে। এসময় তিনি পার্বত্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।

শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, শান্তিচুক্তি হওয়ার পর একটি সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। যার যার ধর্ম, কৃষ্টি, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি নিয়ে মনখুলে উৎসবমুখর পরিবেশে সবকিছু পালন করতে পারে। আর এ পরিবেশের জন্যই পার্বত্যঞ্চল ধীরে ধীরে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
মারমা-চাকমা-ত্রিপুরা-মুরংসহ ১৩টি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বয়সের হাজারো নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় তরুণ-তরুণীরা হাতে মোরগ, মুখোশ, বাঁশি, ঘুড়ি, হাতি প্লেকার্ডসহ আদিবাসীদের বিভিন্ন ঐতিহ্য ধারণ করে উল্লাসে মেতে ওঠে।

শোভাযাত্রায় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়সহ আদিবাসী নেতারা।
শোভাযাত্র শেষে ইহকাল ও পরকালে সুখ-শান্তি লাভের জন্য বয়স্কদের উদ্দেশ্যে বয়স্ক পূজা করেন যুবক যুবতিরা। পরে আয়োজন করা হয় ছোটদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা।

উল্লেখ্য, মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন বৈসাবিকে সাংগ্রাই উৎসব হিসেবে পালন করে থাকেন। পুরনো বছরের শেষ দিন এবং নতুন বছরের প্রথমদিনই সাংগ্রাই উৎসবের দিন হিসেবে তাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পুরনো বছরের শেষ তিনদিনের প্রথম দিন নারী-পুরুষ সবাই মিলে বৌদ্ধ মূর্তিগুলোকে নদীর ঘাটে নিয়ে পানি ও দুধ দিয়ে স্নান করায়।
পরের দু`দিন মারমা জনপদে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। ওই দুইদিন পাড়ায় পাড়ায় চলে পানি খেলা বা জল উৎসব। একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে নিজেদেরকে শুদ্ধ করে নেন মারমা জনগোষ্ঠী। এবারও পাড়ায় পাড়ায় ওই উৎসবের আয়োজন শুরু হয়েছে।
সৈকত দাশ/এফএ/পিআর