ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

হুমকির মুখে সুন্দরবনের মধু সম্পদ

প্রকাশিত: ০৯:৩৪ এএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৫

বিশ্ব ঐহিত্য সুন্দরবনে শুরু হয়েছে মধু ও মোম আহরণ মৌসুম। চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে সুন্দরবন থেকে দীর্ঘদিন ধরে সনাতন পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ মধু পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

মৌয়ালরা জানায়, আগুন ও ধোঁয়া ব্যবহার করে সনাতন পদ্ধতিতে মধু আহরণ করায় সুন্দরবনে এর আগে একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বছরের পর বছর ধরে সনাতন পদ্ধতিতে মধু আহরণের কারণে সুন্দরবনের মধু সম্পদ এখন হুমকির মুখে পড়েছে।

সুন্দরবনের মধু ও মোম সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে মৌয়ালদের সাথে কথা হলে তারা জানান, খড়-কুটো, গাছের ডাল-পালা-পাতা বা কাপড়ে আগুন ধরিয়ে ধোঁয়া দিয়ে মৌচাক থেকে তারা মধু সংগ্রহ করেন। প্রথমে আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়া তৈরির পর সেই ধোঁয়ার মাধ্যমে মৌচাক থেকে মাছি তাড়ানো হয়। এসময় মৌয়ালরা মৌ মাছির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মাথা ও চোখ-মুখে গামছা বা কাপড় পেঁচিয়ে নেয়। ধোঁয়ার কারণে মৌচাক থেকে মৌমাছি দূরে সরে যেতে শুরু করলেই মৌয়ালরা দ্রুততার সাথেই মৌচাক কেটে বালতি বা হাঁড়িতে রাখে। এর ফলে মৌমাছি মরে যাওয়া এবং মাছির কামড় খাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তবে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই মৌয়ালরা এ সনাতন পদ্বতি অনুসরণ করে আসছে।

এ বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) আমির হুসাইন চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এখনও সুন্দরবনের মৌয়ালরা সনাতন পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করে থাকে। প্রতি বছর এ মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে ধোঁয়া ও আগুনের ব্যবহারের কারণে মৌচাকের ক্ষতিসহ অনেক মৌমাছি মারা পড়ে। এমনকি শুষ্ক মৌসুমে অনেক মৌয়াল বা মৎস্যজীবীদের ফেলে যাওয়া আগুন থেকেও সুন্দরবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।

মৌয়ালরা আরও জানান, সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে প্রচুর পরিমাণ মৌচাক রয়েছে। বৃহৎ আকৃতির এসব মৌচাকে প্রচুর পরিমাণ মধু পাওয়া যায়। সুন্দরবনের খসলী ও গেওয়া গাছ যে অঞ্চলে বেশী সেখানে মৌচাকের সংখ্যাও বেশি। খসলী এবং গেওয়া গাছ থেকে প্রাপ্ত মধু খুবই মিষ্টি এবং মানেও উৎকৃষ্ট হয়। নিয়ম অনুযায়ী ধোঁয়া দিয়ে চাক থেকে মৌমাছি তাড়িয়ে মধু সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু অনেক সময় মৌয়ালরা মৌচাকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কারণে প্রচুর মৌমাছি মারা যায়। এ কারণে সুন্দরবনের গহীন অরন্যে এখন আর পর্যাপ্ত পরিমাণের মধু পাওয়া যায় না ।

এ বিষয়ে চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা গাজী মতিয়ার রহমান বলেন, মৌয়ালরা সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহের সময় আগুনের ধোঁয়া দিতে গিয়ে অসর্তকতার কারণে মৌচাক পুড়িয়ে ফেলে। তবে সর্তকতার সাথে শুধু ধোঁয়া দিয়ে মাছি তাড়িয়ে অথবা আগুনের পরিবর্তে ধোঁয়া তৈরির যন্ত্রের ব্যবহার করা গেলে মৌচাকের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। আবার মৌমাছি মরার ঘটনাও কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, মধু আহরণের কাছে নিয়োজিত মৌয়ালরা চাক থেকে মাছি তাড়ানোর সময় গামছার পরিবর্তে মুখে মাস্ক ব্যবহার করলে মৌমাছির আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবেন। এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মৌচাকে আগুন লাগা ও আগুনে মৌমাছি পুড়ে যাওয়ার ঘটনা হ্রাস পাবে।

এসএস/এমএএস/আরআইপি