পঞ্চগড়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত : বিজিবির ৫ সদস্য প্রত্যাহার
পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং জনকণ্ঠ ও চ্যানেল আই এর স্থানীয় প্রতিনিধি এ রহমান মুকুলকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিজিবির পাঁচ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।
রোববার সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের ঘাগড়া ক্যাম্প থেকে তাদের প্রত্যাহার করে ব্যাটালিয়ন হেড কোয়ারর্টারে আনা হয়। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিন। গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তবে ঘটনার নির্দেশদাতা ঘাগড়া ক্যাম্পের কমান্ডার মো. জসিম উদ্দিনকে প্রত্যাহার না করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।
বিজিবি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত শনিবার দুপুরে বিজিবির ঘাগড়া ক্যাম্পে একজন নিরিহ কৃষককে মারপিট করছিল বিজিবি সদস্যরা। সাংবাদিক মুকুল প্রকাশ্যে তাকে মারপিটে কারণ জানতে চাইলে উত্তেজিত কয়েকজন বিজিবি সদস্য তাকে লাঞ্ছিত করেন। পরে স্থানীয় সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় রোববার পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের একটি প্রতিনিধি দল বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের সঙ্গে দেখা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে লিখিত দেন।
সাংবাদিক মুকুলকে নির্যাতনের ঘটনায় বিজিবি কর্তৃক পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিজিবি। তদন্ত চলাকালীন প্রাথমিকভাবে পাঁচ সদসকে প্রত্যাহার করা হয়। ঘাগড়া বিওপি সংলগ্ন স্থানীয় লোকজন প্রত্যাহারকৃতদের ক্যাম্প থেকে বের হতে দেখেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সাংবাদিক মুকুলের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। তার বা হাতের সবগুলি আঙ্গুল ফুলে গেছে। এখনো একা হাটতে পারছেন না। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোলা রয়েছে।
সাংবাদিক মুকুল বলেন, নিয়মিত ব্যাথার ইনজেকশন নিতে হচ্ছে। হাটতে পারছি না। ক্যাম্প কমান্ডার জসিম উদ্দিন ঘটনার উস্কানি দিয়েছিল। কিন্তু এখনো তিনি বহাল তবিয়তে আছেন।
পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল হক বিজিবি সদস্য প্রত্যাহারের কথা নিশ্চিত করেন। তবে তিনি প্রত্যাহাকৃতদের নাম এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এমএএস/আরআইপি