ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

হাওরাঞ্চলে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে গরু

প্রকাশিত: ০৭:৩০ এএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৭

আগাম বন্যায় জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষত শুকানোর আগেই এবার গো-খাদ্য নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। একদিকে বেঁচে থাকার আহাজারি অন্যদিকে গো-খাদ্যের সংকটে দিশেহারা তারা। অনেকেই একমুঠো খাবারের আশায় পরিবার-পরিজন নিয়ে শহরের দিকে ছুটছেন। যারা এলাকায় আছেন তাদের শেষ সম্বল গরুগুলো বিক্রি করছেন পানির দরে।

তাহিরপুর উপজেলার দুধের আউটা গ্রামের কৃষক নুরুল হকের ১০টি গরু রয়েছে। গো-খাদ্যের অভাবে তিনি গরুগুলো বিক্রি করে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

ধর্মপাশা উপজেলার দেওলা গ্রামের কৃষক নুরুল হুদা জানান, এক মাস আগেও তার তিনটি গরুর দাম হয়েছিল একলাখ টাকা। হাওরডুবির পর উপায়ন্তর না পেয়ে তিনটি গরু ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। গোয়ালে থাকা আরও চারটি গরু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন তিনি।

‘হাওর বাঁচলে বাঁচবো আমরা’ এই স্লোগান নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র রক্ষায় কাজ করা টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও টাঙ্গুয়ার হাওর ইকো-ট্যুরিস্ট গাইড হাওরপাড়ের জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা আহমদ কবির বলেন, গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দেয়ায় এলাকার অধিকাংশ কৃষক গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। হাওরাঞ্চলের কৃষকদের এই করুণ আর্তনাদ আমাকে ক্ষত-বিক্ষত করে। যারা কৃষকের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে তাদের বিচার ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সার্বিক পুনর্বাসন চাই।

sunamgonj

তাহিরপুর উপজেলার তরং গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী শামছুল আলম আখঞ্জি টিটু বলেন, হাওরডুবির পর থেকেই গরু কেনা বেচার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বাধ্য হয়েই কম দামে বিক্রি করছেন তাদের শেষ সম্বলটুকু।

একই উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কালাম বলেন, এক ফসলি বোরো ধান আর গোয়ালের গরু হাওরপাড়ের কৃষক পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কৃষকের ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবার গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম বলেছেন, গো-খাদ্যের অভাবে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন কৃষকরা। এ সংকট নিরসন ও গবাদিপশু রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলার ১৪০টি হাওরের বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে দুই লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসল হারিয়ে আহাজারি করছেন তারা।

জেলায় এবার ৫ লাখ ৫২ হাজার ৯০৯ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় তিন লাখ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দাবি করেছে।

তবে কৃষকরা এ দাবি মানতে নারাজ। তারা বলছেন, জেলায় ৯০ শতাংশ বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরএআর/পিআর