কুতুবদিয়া আদালতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে বিচার কার্যক্রম
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় আদালতের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে বিচার কার্যক্রম। ফাটল ধরা ভবনের ছাদ ধসে পড়ার পর থেকে আদালতে কর্মরতদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার দুপুরে ছাদ ধসের ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন আদালতের জিআরও এএসআই দুদু মিয়া। ধসের মাত্র কয়েক মিনিট আগে তিনি রুম থেকে বের হয়ে আদালতের বারান্দায় এসে দাঁড়ালে এ ঘটনা ঘটে।
মুহূর্তে খবরটি আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিচার প্রার্থী ও সাধারণ লোকজনের মাঝে পৌছালে সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ছাদ খসে পড়া স্থল পরিদর্শন করেন কুতুবদিয়া আদালতের জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর কবির।
কুতুবদিয়া আদালতের জিআরও এএসআই দুদু মিয়া জানান, রোববার সকাল থেকেই কাজ করছিলাম। বেলা ১২টার দিকে কক্ষ থেকে বের হয়ে বারান্দায় দাঁড়াই। এর পাঁচ মিনিট পর অকস্মাৎ ছাদটি ধসে পড়ে। উঠে না আসলে ছাদটির ধসে পড়া অংশের নিচে চাপা পড়তে হতো আমাকে।
আদালত সুত্রে জানা যায়, দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার প্রায় লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ লাগবের জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৮৫ সালে কুতুবদিয়া আদালত ভবনটি স্থাপন করেন। ভবনটি নির্মাণের ৩২ বছর অতিবাহিত হলেও কোনো যুগ-উপযোগী মেরামত হয়নি।
১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ে আঘাতের পর কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে ভবনটিতে আদালতের বিচারিক ও দাফতরিক কর্মকাণ্ড চলে আসছিল। গত ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত ইসলামির নায়েবে আমীর দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুেণ্ডের রায় ঘোষণার প্রতিবাদে উপজেলার বিভিন্ন দফতরে জামায়াত-বিএনপির সমর্থকরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় এ আদালত ভবনও ভাঙচুরের কবলে পড়ে।
20170417144355.jpg)
ভাঙচুরের পর মেরামত করার জন্য উপজেলার অন্যান্য দফতরের জন্য বরাদ্দ আসলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কুতুবদিয়া আদালত ভবনের মেরামতের জন্য কোনো বরাদ্দ আসেনি। লিখিতভাবে একাদিকবার আবেদন করা হলেও এখনো সাড়া মেলেনি। যার কারণে বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ আদালতের কর্মচারীরা বিচারিক ও দাফতরিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।
কুতুবদিয়া আদালতের আইনজীবী কামাল উদ্দিন জানান, ১৯৮৫ সালে তৎকালীন এরশাদ সরকারের আমলে নির্মিত আদালত ভবনটি সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে আছে। আদালত ভবনটি সংস্কার অতিব জরুরী। সংস্কার না হলে আদালত ভবনটিতে বিচারিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে।
কুতুবদিয়া আদালতের এপিপি অ্যাড. জিল্লুল করিম জানান, মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পন ও টানা বৃষ্টি হলেও আদালত ভবনটি সম্পূর্ণ বিলিন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া আইনজীবিদের জন্য আলাদা কোনো ঘর নেই। ফলে বিচার ও বিশ্রাম উভয়ই একই স্থানে হওয়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে ভবনটি মেরামতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
কুতুবদিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আদালত ভবনের খসে পড়েছে এবং ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ, দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল রয়েছে। বলতে গেলে পরিত্যক্ত ভবনেই বাধ্য হয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। আল্লাহর রহমত থাকায় রোববার খসে পড়া ছাদের আঘাতে কেউ হতাহত হয়নি।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/জেআইএম