সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে সীমাহীন দুর্ভোগ
সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়ক এখন দিনের আলোতেও ধুলায় অন্ধকার। মহাসড়কের ১৮ মাইল নামক স্থান থেকে খুলনার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল অবস্থা। কোথাও কোথাও রাস্তার পিচ উঠে মাটি বেরিয়ে পড়েছে। সেইসঙ্গে সবটুকু রাস্তা ভাঙাচোরা আর খানা-খন্দে পূর্ণ। মানুষের দুর্ভোগের যেন সীমা নেই। তারপরও গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কটি দিয়েই চলাফেরা প্রতিদিন লাখো মানুষের।
খুলনা-পাইকগাছা সড়কের বাসচালক মিলন সরদার জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন লাখো মানুষ আর হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। যশোর থেকে খুলনা ও সাতক্ষীরার যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয় সড়কটি। অথচ সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোড় বড় দুর্ঘটনা।
কয়েকদিন আগেই ডুমুরিয়া এলাকায় রাস্তা খারাপের কারণে চারজন মারা গেল। তাছাড়া বাস-ট্রাকগুলোও হেলে দুলে চলে। সাধারণ মানুষেরও দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই।
20170419093139.jpg)
মিলন সরদার আরও বলেন, রাস্তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাস মালিকরাও। প্রতিদিন বাসের ইঞ্জিনের কোনো না কোনো ক্ষতি হচ্ছেই। সেইসঙ্গে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস চালাতে হয় আমাদের।
রাস্তা এখন ধুলায় অন্ধকার জানিয়ে মোটরসাইকেলচালক চুকনগর এলাকার হাফিজুল ইসলাম বলেন, এখন আর রাস্তাটি পাঁকা রাস্তা নেই। পিচ উঠে মাটির রাস্তা হয়ে গেছে। রাস্তায় বের হলেই ধুলা-বালু।
তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী সাতক্ষীরার মুঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ১৮ মাইল থেকে খুলনার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কটি খুলনার আওতায় পড়ে। সাতক্ষীরার আওতায় যেটুকু সড়ক খারাপ রয়েছে সেটুকু সংস্কারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
খুলনা ও সাতক্ষীরার রাস্তা প্রশস্তের জন্য ১৬২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাস হয়েছে জানিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খুলনার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইতোমধ্যে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রাস্তাটি দিয়ে ভারি যানবাহন চালাচল করায় রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাস্তা প্রশস্ত ও সংস্কার প্রকল্পের আওতায় খুলনা, ডুমুরিয়া, বাগেরহাট, ফকিরহাট, কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, সাতক্ষীরা সদর ও তালা অঞ্চল রয়েছে। আশা করছি আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই জিরো পয়েন্ট থেকে ১৮ মাইল পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার করা সম্ভব হবে।
আকরামুল ইসলাম/এফএ/আরআইপি